পুঁজিবাজারে এক বছরে আইসিবির বিনিয়োগ বেড়েছে ১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ১ হাজার ৪৬২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ বেড়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৯টি খাতে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। যা মোট বিনিয়োগের ১৮.০৯ শতাংশ বা ৮৮৩ কোটি টাকা। আর একক কোম্পানির মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোনে সর্বোচ্চ ২৩৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আইসিবির প্রকাশিত সর্বশেষ অর্থবছরে (২০১৩-১৪) আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আইসিবির ২০১৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ (কনসোলিডেট) ৪ হাজার ৮৮২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বন্ডে ৫ কোটি ৯০ লাখ ও ডিবেঞ্চারে ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এর আগের বছর ২০১৩ সালে একই খাতে আইসিবির বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪২০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তবে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারে ২০১৪ সালের ৩০ জুন বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৮১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে ১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে আইসিবির বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এদিকে, আইসিবি বিনিয়োগ করা ১৯টি খাতে মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে জ্বালানি খাতে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কেমিক্যাল ও ওষুধ খাত। এ খাতে ৭৯১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে ৫৯২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, খাদ্য ও বিবিধ খাতে ৫৮০ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে কম বিনিয়োগ রয়েছে পেপার ও প্রিন্টিং ও পাট খাতে। পেপার ও প্রিন্টিংয়ে ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ও পাট খাতে ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিগুলোতে আইসিবির বিনিয়োগ রয়েছে ২০৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এসব বিনিয়োগ সাধারণত প্লেসমেন্টে শেয়ারের মাধ্যমে করা হয়েছে। এর মধ্যে এনার্জিপ্যাক কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার ৪৪ টাকা দরে ১২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, দ্য একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার ৫২ টাকা করে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া জাগো কর্পোরেশন, করিম পাইপ, এবি বিস্কুট, এরোমা টি, ঢাকা ভেজিটেবল, মেঘনা ভেজিটেবল, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার, মিমকো জুট মিলস, এলাইড ফার্মা, ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ লাগেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রগ্রেসিভ প্লাস্টিক, মিলন টেনারিস, দেশ ডেনিমস, প্যারাগোন লেদারসহ আরো বেশকিছু কোম্পানিতে আইসিবির বিনিয়োগ রয়েছে। আইসিবি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় (ক্যাপিটাল গেইন) থেকে ৪৭২ কোটি ১০ লাখ টাকা আয় করেছে। আর বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশ বাবদ আয় করেছে ১৯০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া সাবসিডিয়ারি ও ডিবেঞ্চার থেকেও লভ্যাংশ আয় করে। আগের বছরের একই সময় ক্যাপিটাল গেইন বাবদ আয় ছিল ৩৭৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর লভ্যাংশ বাবদ আয়ের পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির প্রদত্ত মার্জিন লোন রয়েছে ১২৯৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। যার পরিমাণ আগের বছর ছিল ১ হাজার ২২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ রয়েছে ৪২১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আইসিবি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করে ৮৫.৪৭ টাকা করে। যার পরিমাণ আগের বছর ছিল ৭৭.৯৫ টাকা।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, আইসিবির বিনিয়োগ বাড়ানো শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক। বাজারকে স্বাভাবিক রাখতেই বিনিয়োগ বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবির নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে। একই বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, আইসিবির বিনিয়োগ বৃদ্ধি শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান বলেন, শেয়ারবাজারে যখনই দরপতন ঘটেছে তখনই আমরা শেয়ার বাই করেছি। অনেকেই আমাদের অনুসরণ করেন। যখন বাজারে সমস্যা হয়, তখন আইসিবি বিনিয়োগকারীর পাশে থাকে। ২০১১ সালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে ছিল আইসিবি। বিনিয়োগকারী যদি ব্লুক হয়ে যান, তাহলে বাজার গতিহীন হয়ে পড়ে। আইসিবি বাজারকে গতিশীল করার চেষ্টা করছে।