নতুন চার বিদ্যুৎ কেন্দ্র

গত রোববার নতুন চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ঘোড়াশালে অবস্থিত নতুন চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩১৫ মেগাওয়াট। দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতাবৃদ্ধিতে এরকম ছোট ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তবে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পৌঁছেছে ১৩ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াটে। অদূর ভবিষ্যতে একে ১৯ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা অবশ্যই আশার কথা।

গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চার বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকারের আমলে দেশে মোট ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার সরকার সৌর বিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপরও বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও পরমাণুভিত্তিক এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এই খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রথমে ২ হাজার মেগাওয়াট পরে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ভারত থেকে এরই মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে জানিয়ে আরো ৫০০ মেগাওয়াট আমদানির পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া আগরতলা থেকে পাওয়া যাবে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটান এই চতুর্দেশীয় উদ্যোগের মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আনার পরিকল্পনার কথা রয়েছে। একটি আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করেই এই বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। উল্লিখিত বিষয়গুলো বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকারের বিশেষ মনোযোগ এবং উদ্যোগেরই সাক্ষ্য বহন করে। প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখ করা সরকারের এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তৎপরতা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, জ্বালানি খাতে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও নির্দেশ বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের ব্যর্থতাই বিভিন্ন সময় সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে। যেমন- দুর্গম এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, বিদ্যুৎচালিত পরিবহনের ক্ষেত্রে গ্রিডের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ খাতকে শ্রম আইনের আওতার বাইরে রাখা, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রকল্পের মতো সরকারি বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রণোদনা দেয়া, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) করপোরেশনে পরিণত করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়নে গতি কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। এটা বাস্তবায়ন করতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমদানি বাড়ানো, অপচয়-দুর্নীতি কমানো সব দিকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে সরকারকে।

দেশে গ্যাসের মজুদ কমে আসছে। তেল-গ্যাসের অভাবে আমাদের সক্ষমতার অনেক কম বিদ্যুৎ আমরা এখন উৎপাদন করতে পারছি। কাজেই এরকম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াই যথেষ্ট নয়। বর্তমান বাস্তবতায় কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে হবে। বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারী পর্যায়ে সাশ্রয়চর্চার দৃষ্টান্ত তৈরি হলে তা গ্রাহকদের উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে বিতরণ পর্যায়ে অপচয় দুর্নীতিও শক্ত হাতে রোধ করতে হবে।