১১৮ বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনা হবে : সজীব ওয়াজেদ জয়

শিগগিরই সরকারি- বেসরকারি ১১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, একটি আইটি ইন্ডাস্ট্রি এবং আইটির ওপর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামসুন্দর শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বুয়েটের উপাচার্য খালেদা একরাম, শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনিল কান্তি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফাইজুর রহমান প্রমুখ।

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ’ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫০০ ল্যাপটপ বিতরণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াইশ শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের টেলিটকের পক্ষ থেকে একটি করে ইন্টারনেট মডেম ও কম্পিউটার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে একটি করে পেন ড্রাইভও দেয়া হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন রয়েছে। এ জন্য আমরা প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসরমান দেশ গড়তে আইসিটি জ্ঞানসমৃদ্ধ জনশক্তি গড়ে তুলতে আইসিটিভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। দেশের ১১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফাইবার অপটিক কেবল দিয়ে সংযুক্ত করতে কাজ চলছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই জোন করার কাজও আরম্ভ হয়ে গেছে। আমার স্বপ্ন আছে, এদেশে আইটি পার্ক, আইটি ওয়ার্ক ফোর্স গড়ে তোলার। তিনি বলেন, আমি আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিপুল সম্ভাবনা দেখছি। তাদের মেধা বিকাশের জন্য তাদের যথাযথ শিক্ষা ও আইসিটি অভিজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মার্ক জাকারবার্গ ১৯ বছর বয়সে ফেইসবুক বানিয়েছিলেন। আমার আশা আছে, তোমাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ ভবিষ্যৎ ফেইসবুক বা গুগল আবিষ্কার করবে।

তিনি বলেন, আমরা ছয় বছর আগে যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা করি তখন অনেকে বলেছিল, যারা গরীব মানুষ তারা কীভাবে কম্পিউটার-ইন্টারনেট পাবে। তখন আমি বলেছিলাম, তাদের এগুলো পেতে হবে না। আমি তাদের পৌঁছে দেব। তারই ধারবাহিকতা এ প্রকল্পটি। এটা শেষ নয়। শুধুই আরম্ভ হলো। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই ছাত্রছাত্রীর হাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু করে। আজ থেকে বর্তমান সরকার ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ শুরু করল। আওয়ামী লীগের এ অবদান ভুলে গেলে চলবে না।

গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব সত্য। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে যেন ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়া যায়, সেই ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও ব্যাংকগুলোকে একটা পদ্ধতি চালু করার আহ্বান জানান তিনি। স্বল্প সুদে শিক্ষার্থীদের ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পেলে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ কেনার জন্য চার শতাংশ হার সুদে ঋণ বিতরণ করা সম্ভব। দেশে যত গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের সকলের জন্য ল্যাপটপের ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা খাত থেকে এটা করা হবে।

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অবকাঠামো উন্নয়ন। সে ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছি। সারা দেশে উপজেলা পর্যন্ত প্রায় সবগুলো অফিসকে ফাইবার অপটিক কেবল সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যোদ্ধা হিসেবে তৈরি নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করবে। সে দায়িত্ব আজকের শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।