দেশে পাঁচ বছরের নিচে বিভিন্ন বয়সী শিশুর মৃত্যুহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। সেই সাথে গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে ৭০ বছর ১ মাসে উন্নীত হয়েছে। সর্বশেষ আদমশুমারিকে ভিত্তি করে পরবর্তী বছরগুলোতে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস্ অব বাংলাদেশ’ (এমএসভিএসবি) প্রকল্পের চূড়ান্ত তথ্যে এ বিষয়গুলো উঠে আসে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে শিশুমৃত্যু হার হ্রাসে।  নবজাতক থেকে বিভিন্ন বয়সের শিশুমৃত্যুর হার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০০৯ সালে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুহার ছিল হাজারে ৫০ জন। পরবর্তী বছরগুলোতে যথাক্রমে এ সংখ্যা কমে এসেছে ৪৭, ৪৪, ৪২ ও ২০১৩ সালে ৪১ জনে।

প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক একেএম আশরাফুল হক ইত্তেফাককে বলেন, প্রতি ১০ বছর অন্তর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। শুমারি পরবর্তী বছরভিত্তিক জনসংখ্যা ও জনতাত্ত্বিক সূচকসমূহের পরিবর্তন হতে থাকে। তাই এমএসভিএসবি প্রকল্পের মাধ্যমে জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ, তালাক, আগমন, বহির্গমন এবং আর্থ-সামাজিক তথ্য সংগ্রহ করে হালনাগাদ করা হয়। এবারের প্রতিবেদনটি ২০১৩ সাল জুড়ে তথ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহের আওতা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে রয়েছে মোট জনগোষ্ঠীর ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৫ বছরের নিচে রয়েছে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী। যা তার আগের বছরে ছিল যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৯ ও ৩১ দশমিক ১ শতাংশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বার্ষিক ১.৩৭ যা ২০১১ সালে ছিল ১.৩৬। এ সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে; যা ২০০৯ সালে ছিল ৫৬ দশমিক ১ ও ২০১২ সালে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশের মানুষের পানি ব্যবহারের হার (ট্যাপ ও নলকূপ) ২০০৯ সালে ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ ছিল; যা পরবর্তী বছরে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৩ সালে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের উন্নতি হয়েছে। ২০০৯ সালে দেশের ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ এ সুবিধায় ছিল, ২০১৩ সালে এ হার হয়েছে ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। তবে আড়াই শতাংশ মানুষ উন্মুক্ত স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ করে। অন্যদিকে গৃহস্থালিতে আলোর উেস কেরোসিনের ব্যবহার কমে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে।

বর্তমানে ৭ বছরের ওপরে শিক্ষার হার ৫৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে; যা এক বছর আগেও ছিল ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৫ বছরের ওপরে শিক্ষার হার হয়েছে ৬১ শতাংশ, যা আগের বছরও ছিল ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

আলোচিত সময়ে গ্রাম হতে শহরে অভিবাসন হারও বেড়েছে। ২০০৮ সালে এ হার ছিল ২১ দশমিক ৯; যা ২০১৩ সালে হয়েছে ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে আলোচ্য সময়ে প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার হার কমেছে। ২০০৯ সালে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী থাকলেও ২০১৩ সালে এ হার ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ হয়েছে। পুরুষের গড় বিবাহের বয়স হয়েছে ২৪ দশমিক ৮ বছর এবং নারীর ১৯ দশমিক ৩ বছর। ধর্ম ভিত্তিক বিভাজনে দেখা যায় দেশের ৮৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মুসলিম। বাকিরা অন্য ধর্মাবলম্বী।