জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ : জিইডির পূর্বাভাস

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক থিঙ্কট্যাঙ্ক খ্যাত সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। সংস্থাটি বলছে, বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হলেও তা হবে না। প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা এর ওপরে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির চলমান গতিধারা বিশ্লেষণ করে জিইডি প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ, এসকাপ গত কয়েক বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে যেসব পূর্বাভাস করেছে তার কোনোটাই সঠিক হয়নি। এবারো হওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ দেখি না। তিনি বলেন, গত অর্থবছর বিশ্বব্যাংক জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করেছিল ৫.৩ থেকে ৫.৫ শতাংশ। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৬.১২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ৫.৬ শতাংশ। কিন্তু সেটিও ঠিক হবে না।
জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেহেতু বাজেট ব্যয় গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে ১২.৮ শতাংশ, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়বে। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমান বছরে তা বেড়েছে ২৯.৭৪ শতাংশ, যার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়ছে। এ ছাড়া ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৮.৩৯ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২৮.৭০ শতাংশ। আবার ২০১৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি আয় ৫.১ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫.৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আমদানি ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বেড়েছে ৩.৪ বিলিয়ন থেকে ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এডিপির বাস্তবায়ন হার কমেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধি, বিদেশে শ্রমিক পাঠানো বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদনসহ কৃষি পণ্যের উৎপাদন বেড়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি।