প্রতি শাখায় ন্যূনতম তিনজন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে

সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নারী উদ্যোক্তা বাড়াতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটি শাখাকে ন্যূনতম তিনজন নারী উদ্যোক্তাকে খুঁজে বের করে প্রশিক্ষিত করার মাধ্যমে ঋণ নিশ্চিত করতে হবে। এ তিন নারী উদ্যোক্তা এমন হবেন, যারা ইতোপূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো প্রকার ঋণ গ্রহণ করেননি। একইসঙ্গে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আরো বাড়াতে পারলে সংশ্লিষ্ট শাখাকে প্রশংসিত করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষমতায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় অধিকতর প্রবেশ নিশ্চিতকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষত নতুন নারী উদ্যোক্তাদের অনুকূলে ঋণের প্রবৃদ্ধি ও উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নানাবিধ পদক্ষেপ ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপত্রে নারী উদ্যোক্তার পছন্দ অনুযায়ী তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রতিবছর ন্যূনতম একজন নারী উদ্যোক্তাকে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্রখাতে ঋণ প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন নারী উদ্যোক্তাদেরকে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সহায়তা এবং এ ধরনের ঋণ কার্যক্রমের সাফল্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্যামেলস রেটিংয়ে প্রতিফলিত করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচিত নারী উদ্যোক্তাদেরকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিল্প বা সেবা অথবা ব্যবসা কার্যক্রম নির্বাচন, মূলধন সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় পরিচালনা, উত্পাদিত পণ্য সামগ্রিক সেবা বাজারজাতকরণ, ব্যাংকে হিসাব খোলা ও লেনদেনের পদ্ধতিসহ সার্বিক বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে অথবা আঞ্চলিক পর্যায়ে কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ব্যাংক বা ব্যাংক বহির্ভূত প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, জাতীয় মহিলা সংস্থা, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বিভিন্ন ব্যবসায়িক চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন, নারী উদ্যোক্তা চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশনসহ অনুরূপ সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ঋণ কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসেবে সকল ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শাখা কর্তৃক নির্বাচিত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তিনজন নতুন নারী উদ্যোক্তার মধ্য থেকে প্রতিবছর ন্যূনতম একজনকে কুটির, মাইক্রো অথবা ক্ষুদ্র খাতে ঋণ প্রদান করতে হবে। এ সংখ্যা আরো বেশি হলে ব্যাংক প্রশংসিত হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনে নারী উদ্যোক্তাদের গ্রুপ ভিত্তিতেও ঋণ প্রদান করা যাবে। উদ্যোক্তাদের অন্যান্য আর্থিক সেবার চাহিদা পূরণের বিষয়েও ব্যাংক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।