গর্বের সিমেন্টশিল্প সিমেন্ট

গর্বের সিমেন্টশিল্প সিমেন্টসিমেন্ট হলো ওই সব গুঁড়াজাতীয় পদার্থের সাধারণ নামÑ যা পানি বা অন্য কোনো তরলের সঙ্গে মিশ্রিত করলে কাদার মতো নমনীয় পদার্থ পাওয়া যায় এবং তা কিছু সময়ের মধ্যে জমে গিয়ে বিভিন্ন শক্ত পদার্থ গঠন করে। সিমেন্ট বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু ইত্যাদি নির্মাণকাজের প্রধান উপাদান। অনেক ধরনের সিমেন্ট হয়ে থাকেÑ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট, পজুলানা সিমেন্ট, অধিক অ্যালুমিনিয়াম-সমৃদ্ধ সিমেন্ট, ক্ষয়রোধী সিমেন্ট, পানিরোধী সিমেন্ট, রঙিন সিমেন্ট ইত্যাদি। সিমেন্টের মূল উপাদানগুলো হলো চুনজাতীয় পদার্থ (চক, চুনাপাথর ইত্যাদি) এবং মাটিজাতীয় পদার্থ (সিলিকা, আয়রন অক্সাইড, অ্যালুমিনা ইত্যাদি)। দীর্ঘকাল ধরেই নির্মাণকাজে ইট-পাথর বা অন্যান্য বস্তু দিয়ে গাঁথার কাজে সিমেন্ট সংযোজক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রচলিত সিমেন্টের মধ্যে পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বহুল ব্যবহৃত, যা চুন ও কাদার মিশ্রণ পুড়িয়ে পাউডারের মতো চূর্ণ করে তৈরি করা হয়। বালু ও পানির সঙ্গে সিমেন্ট মিশিয়ে ‘মর্টার’ এবং ইট বা পাথরের টুকরা, সিমেন্ট, বালু ও পানি মিশিয়ে কংক্রিট তৈরি করা হয়।
আমাদের কোম্পানিগুলো
বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সরকারি সিমেন্ট কারখানা ছাতক, যা একসময়ের সর্ববৃহৎ সিমেন্ট কারখানা ছিল। গুণে-মানে ছিল বেসরকারি সিমেন্টের অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বর্তমানে দেশে সিমেন্টের ৮০ শতাংশ দেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে। দেশি কারখানাগুলোর মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপের শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আকিজ গ্রুপের আকিজ সিমেন্ট, বসুন্ধরা গ্রুপের ‘মেঘনা সিমেন্ট মিলস ইউনিট-১ ও ২-এর বসুন্ধরা সিমেন্ট এবং কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের প্রিমিয়ার সিমেন্ট, মেঘনা গ্রুপের ইউনিক সিমেন্ট মিলসের ফ্রেশ ও মেঘনাসেম, মদিনা গ্রুপের টাইগার সিমেন্ট, থ্রি রিংকস ও বাফেলো হেড সিমেন্ট, এমআই সিমেন্টের ক্রাউন সিমেন্ট, মেট্রোসেম সিমেন্ট মিলসের মেট্রোসেম সিমেন্ট, ইস্টার্ন সিমেন্ট মিলসের সেভেন হর্স সিমেন্ট, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আরামিট সিমেন্ট, আনোয়ার গ্রুপের আনোয়ার সিমেন্ট, রয়েল সিমেন্ট, মীর আখতার হুসেন লিমিটেডের মীর সিমেন্ট। আছে গাজী গ্রুপের গাজী সিমেন্ট, নিটল-নিলয় গ্রুপের নিটল সিমেন্ট, দেশবন্ধু গ্রুপের দেশবন্ধু সিমেন্ট, ইস্টার্ন সিমেন্ট, সেনাকল্যাণ সংস্থার এলিফেন্ট ব্র্র্যান্ড সিমেন্ট। দেশের আরও উল্লেখ্যযোগ্য সিমেন্ট কোম্পানি হলোÑ আহাদ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, আলহাজ মোস্তফা হাকিম সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিইইসি ইন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বসুন্ধরা ট্রেডিং কোং লিমিটেড, বেঙ্গল টাইগার সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিশ্বাস কনস্যুলেন্ট, সিমেক্স সিমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড, চিটাগাং সিমেন্ট কিংকার গ্রিংডিং কোং লিমিটেড, কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড, ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড, ইস্টার্ন সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, জিবিবি ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড, হোন্দাই সিমেন্ট (বা.) কোং লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল সিমেন্ট লিমিটেড, মডার্ন স্ট্রাকচারাল সার্ভিস লিমিটেড, মঙ্গলা সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ঢাকা, ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস লিমিটেড, প্যাসিফিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ (বিডি) লিমিটেড, পান্থ সিমেন্ট পেপার বাঘ, এস আলম সিমেন্ট, ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
বিদেশি কিছু প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে সিমেন্টশিল্পে বিনিয়োগ করেছে। তার মধ্যে হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের হোলসিম সিমেন্ট, হাইড্রেলবার্গ বাংলাদেশ লিমিটেডের স্ক্যান সিমেন্ট এবং রুবি সিমেন্ট, সিমেক্স সিমেন্টের ব্যান্ড সিমেক্স, এমিরেটস সিমেন্ট মিলস ভারতী অদিত্য বিরলার সঙ্গে উৎপাদন করছে আল্ট্রাটেক সিমেন্ট, সুন সাং সিমেন্ট সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেড তৈরি করছে সেভেন রিংকস সিমেন্ট। অন্যদিকে ফরাসি-স্প্যানিশ যৌথ বিনিয়োগে সুরমা নদীর তীরে লাফার্জ-সুরমা তৈরি করছে সুপারক্রিট সিমেন্ট ও পাওয়ারক্রিট সিমেন্ট। লাফার্জ-সুরমা সিমেন্ট দীর্ঘ ১৭ কিলোমিটার কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে সরাসরি ভারতের মেঘালয় থেকে কাঁচামাল আনছে, যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তঃসীমান্ত কনভেয়ার বেল্ট হিসেবে স্বীকৃত। শুধু তাই নয়, এই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি দেশের সিমেন্ট চাহিদার ১০ শতাংশের ১ শতাংশ পূরণ করে। ভারতে সিমেন্ট রপ্তানি করে বাংলাদেশ তার মধ্যে ক্রাউন সিমেন্ট একাই রপ্তানি করে ৪০ শতাংশ। তা ছাড়া শাহ, প্রিমিয়ার, আকিজ, সেভেন রিংকস, আরামিট, কনফিডেন্স ও বাংলাদেশে উৎপাদিত আল্ট্রাটেকও আছে।
বাংলাদেশের সিমেন্ট
বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্প অনেক পুরনো হলেও সম্প্রতি এ শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। সরকার এ খাত থেকে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০টি বেসরকারি সিমেন্ট কারখানা উৎপাদন কার্যক্রমে রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি টন। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন সিমেন্ট। তবে ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটানোর জন্য বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। বিষয়টি মাথায় রেখে বেশকিছু সিমেন্ট কোম্পানির উদ্যোক্তারা উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম শুরু করেছেন। এরই মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন কেউ কেউ। স্বাধীনতার পর দেশের সিমেন্ট উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৩ লাখ টনের মতো। চাহিদা ছিল প্রায় ৭ লাখ টন। ৪-৫ লাখ টন আমদানি হতো। ২০১০ সালে দেশের সিমেন্টের বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন টন সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়, যা দেশেই উৎপাদিত হয়। সিমেন্ট উৎপাদনে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এখন সিমেন্ট রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বছরে গড়ে ৫ শতাংশ করে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু সিমেন্ট চাহিদা বিশ্বের সর্বনিম্ন। মাথাপিছু মাত্র ৫০ কেজি। ইইউতে ২০০ কেজি, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ কেজি, ভারতে ১০০ কেজি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশে সিমেন্ট ব্যবহার কম। সিমেন্ট তৈরির প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও অপর্যাপ্ত। এ দেশে গৃহনির্মাণসহ অন্যান্য নির্মাণকাজের প্রধান উপাদান নির্বাচন এমনভাবে করা হয়, যাতে সিমেন্টের ব্যবহার সামান্যই হয়। গ্রামাঞ্চলে মানুষ ঘরবাড়ি তৈরির জন্য সচরাচর পাটখড়ি, বাঁশ ও মাটি প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে। কেবল আর্থিক বিবেচনাই নয় বরং অপেক্ষাকৃত সহজ প্রযুক্তি ও আরামদায়ক গৃহনির্মাণের তাগিদ থেকেও উপর্যুক্ত উপাদান নির্বাচন করা হয়। যারা ইট, সিমেন্ট দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করতে আগ্রহী তাদের অনেকে এর ব্যয়ভার বহনে অপারগ। এসব বিষয়ের মিলিত প্রভাব সিমেন্টের চাহিদাকে সীমিত করে রেখেছে। তবে সাম্প্রতিককালে পূর্বতন ধারার ভবনগুলোর পরিবর্তে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের যে প্রবণতা সূচিত হয়েছে, তাতে সিমেন্টের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু যেহেতু দেশের অর্থনীতি এখনো কৃষিনির্ভর, শিল্প ও নির্মাণ খাতে এখনো দ্রুত পরিবর্তন আসেনি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবল কিছু নির্বাচিত খাতেই আবর্তিত হচ্ছে, বিধায় সিমেন্টের চাহিদা এখনো অনুল্লেখযোগ্যই থেকে যাচ্ছে। আশির দশকের মধ্য থেকে কিছু বৃহদাকৃতির অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হওয়া ও বর্ধিত নগরায়ণ, শহরাঞ্চলে অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং ও বহুতল দোকানপাট নির্মাণকাজ সম্প্রসারণ এবং গ্রামের সচ্ছলদের আধুনিক বাড়িঘরের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সিমেন্ট উৎপাদন এবং আমদানি উভয় কর্মকা-ে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় কাঁচামাল ও আমদানীকৃত কিনকার উভয় উপাদান থেকেই স্থানীয়ভাবে সিমেন্ট তৈরি হয়। দেশীয় কোম্পানিগুলো চিন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে কিনকার আমদানি করে। স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে সিমেন্ট উৎপাদনের বিষয়টি স্থানীয় উৎসের ওপর নির্ভরশীল। সেন্টমার্টিন দ্বীপ, জয়পুরহাট ও সিলেট অঞ্চলে চুনাপাথরের খনি রয়েছে। ছাতক ও আয়েনপুর সিমেন্ট ফ্যাক্টরি (সিলেট অঞ্চলে) স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চুনাপাথর থেকে সিমেন্ট উৎপাদন করে। এ দুটি সিমেন্ট কারখানার মিলিত উৎপাদনক্ষমতা বছরে প্রায় ৩ মিলিয়ন টন। কারখানা দুটি সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে।
সম্ভাবনা
প্রতিবছর জাতীয় আয়ের হিসেবে নির্মাণশিল্পের অবদান ১০ শতাংশের ওপরে। নির্মাণশিল্পের অন্যতম প্রধান সহযোগী হচ্ছে সিমেন্ট শিল্প। গত এক দশকে সিমেন্টশিল্পে আশাতীত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এই বিপ্লবে প্রধান কারিগর। আরও সুখবর হলো বাংলাদেশের সিমেন্ট এখন মানের ক্ষেত্রে বিদেশি সিমেন্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা রাখে। বিশ্বের বাজারও খোলা রয়েছে। এখন শুধু প্রয়োজন সরকারি নীতি ও সহযোগিতা। বাংলাদেশে সিমেন্টের মূল্য বিশ্ববাজারের চেয়ে অনেক কম। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও কম। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যাগ সিমেন্টের মূল্য ১০ থেকে ১২ ডলার। দুবাইয়ে ৮ ডলার, ভারত-পাকিস্তানে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ডলার। বাংলাদেশে পৌনে ৪ ডলার। প্রতি ব্যাগে সরকারি রাজস্ব রয়েছে প্রায় ১ ডলার। বাংলাদেশ, দুবাই, আফগানিস্তান ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় সিমেন্ট রপ্তানি করতে পারে। শুধু প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা। বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জনশক্তির অধিকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সস্তা শ্রমশক্তি কাজে লাগিয়ে শিল্পায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে পারে। কার্বন নির্গমন প্রতিরোধ সম্পর্কিত কিওটো প্রটোকলে স্বাক্ষর করায় ইতোমধ্যে চিনসহ অনেক দেশ শ্রমঘন শিল্পকারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর শুরু করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট শিল্পকারখানার প্রসার ঘটানো সম্ভব। ফলে সিমেন্ট উৎপাদন শিল্পে বাংলাদেশ এশিয়ার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
প্রতিবন্ধকতা
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ নানাবিধ কারণে দেশের অর্থনীতিতে চলছে চরম মন্দা। এর প্রভাবে দেশের সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল নির্মাণশিল্প খাতে চলছে অবিশ্বাস্য স্থবিরতা। ফলে সম্ভাবনাময় সিমেন্টশিল্প খাতেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এ খাতের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। সিমেন্টশিল্পের আরেকটি সমস্যা হলোÑ এ শিল্পে বিনিয়োগ নীতি ও তথ্য সুস্পষ্ট না থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বহু ছোট ছোট সিমেন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে। যার প্রায় সবই বর্তমানে বন্ধ। আর এতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা গিয়েছে ব্যাংকিং খাত থেকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সজাগ থাকলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। ছোট মিলগুলো চালু থাকলেও প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। কারণ তাদের উৎপাদনক্ষমতা খুবই কম। কারও ক্ষমতাই মাসে ৩ হাজার টনের বেশি নয়। প্রতিটি বড় মিলের উৎপাদনক্ষমতা মাসে ৫০ হাজার টন থেকে ১ লাখ টন। অসম প্রতিযোগিতায় ছোট মিলগুলো কখনো টিকতে পারবে না।
এই খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্পূর্ণ বিদেশি কাঁচামালনির্ভর সিমেন্ট একটি পুঁজিঘন শিল্প। বিশ্ববাজারে প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে তালমিলিয়ে দেশি কারখানাগুলোয় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিনিয়োগ করতে হয়; কিন্তু উৎপাদনক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় বেশিরভাগ কারখানায়ই নতুন বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ছোট কারখানাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে বড় কোম্পানিগুলো ছোটগুলোকে কিনে নিচ্ছে নামমাত্র মূল্যে এমন কথাও শোনা গেছে।
আবার চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য বিধানে ব্যর্থ হয়ে অনেক উৎপাদনকারীর পক্ষে সিমেন্টের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিমেন্টের প্রধান উপাদান কিংকারের পরিমাণ কমিয়ে কস ফার্নেয়স সেøট, লাইমস্টোন ও ফাই অ্যাশের ব্যবহার বাড়িয়ে দিচ্ছে অনেক কোম্পানি। এতে উৎপাদিত পণ্যের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এসব সিমেন্ট দিয়ে নির্মিত স্থাপনার স্থায়িত্ব নিয়েও। জানা যায়, প্রতি টন কিংকারের মূল্য বর্তমানে ৫০ থেকে ৫২ ডলার। অন্য দিকে ফাই অ্যাশের মূল্য ৮ থেকে ১০ ডলার।
গ্রন্থণা : শামীম ইউসুফ