আরও একশ কোটি ডলার ঋণ দেবে ভারত

সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে নতুন করে আবারও ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। তিনি আসলে নতুন এ ঋণ চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের বহির্বিভাগ সংক্রান্ত সচিব সুজাতা মেহতা।

গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ভারতের বহির্বিভাগ সংক্রান্ত সচিব এ প্রস্তাব দেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১০ সালে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের আওতায় বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার অর্ধেক অর্থ এখনও ছাড় হয়নি।

সাক্ষাৎ শেষে সুজাতা মেহতা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক পথে ভুটান-নেপালসহ আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে ভারত ও বাংলাদেশ কাজ করছে। এক্ষেত্রে অবকাঠামো একটি বড় বাধা। তাই অবকাঠামো উন্নয়নকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। ইতোপূর্বে মনমোহন সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেসব চুক্তি এবং সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে ভারতের বর্তমান সরকারের আমলেও এগুলো অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ভারত আরও একটি ঋণ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেজন্য এর পরিবর্তে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ঋণ সহায়তার প্রস্তাব করেছি আমি।

তিনি বলেন, এছাড়া পর্যটকদের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে নৌ-ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ভারতের পক্ষ থেকে দেয়া হতে পারে। উভয় দেশ সম্মত হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এ ধরনের একটি প্রস্তাব দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলে ১২ জানুয়ারি ৫০ দফা যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। সেখানে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের আওতায় বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ভারত সরকার। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৮০ কোটি ডলার ঋণ এবং বাকি ২০ কোটি ডলার হচ্ছে পদ্মা সেতু উন্নয়নে অনুদান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৩৬ কোটি ডলার ছাড় করেছে ভারত। ভারতীয় ঋণের অর্থে মোট ১৬টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৭৯ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আসবে ভারতীয় ঋণ থেকে। অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।