আফ্রিকায় চাল রফতানি করবে সরকার

ভারত থেকে আসছে নিম্নমানের চাল। ফলে বাজারে চালের দাম কমার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ইতোমধ্যেই কমেছে ধানের দাম। সামনে আসছে বোরো মৌসুম। তাই দেশের কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাল রফতানির বাজার খুঁজছে সরকার। আফ্রিকার দেশগুলোতে মোটা চালের চাহিদা রয়েছে। সেখানেই সিদ্ধ মোটা চাল রফতানির জন্য কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এ বিষয়ে গত বুধবার নিজ দফতরে সকালের খবরকে বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষ মোটা চাল খায়। তাই আশা করছি, কয়েকটি আফ্রিকান দেশে চাল পাঠানো যাবে। রফতানি বাড়লে দেশের কৃষকও ন্যায্য দাম পাবে। আমরা শ্রীলঙ্কায় চাল রফতানি করেছি। চাল রফতানির জন্য আরও বাজার খোঁজা হচ্ছে। দেশে ভালো মজুদ আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের চাল বাজারে আসায় বাজারে চালের দাম কমার প্রবণতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের মত হল কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হবে। তাই ধানের দাম ধরে রাখতে চাল রফতানি করতে হবে। তাই সুগন্ধী চালের পাশাপাশি মোটা চাল রফতানির জন্য বাজার খুঁজছে সরকার। ইতোমধ্যেই আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

৩৫ বছর ধরে রাজধানীর বাবুবাজারে চালের ব্যবসা করেন মো. শারফুদ্দীন। তিনি গতকাল সকালের খবরকে বলেন, প্রতিবছরই চৈত্র্য মাসে চালের বাজার একটু বেশি থাকে। এবারের চিত্র তার বিপরীত। বাজারে চালের দাম কমছে। সামনে আর বাড়বে না। কারণ সামনে বোরো মৌসুম আসছে। বাজার যে অবস্থায় আছে তাতে বোরো মৌসুমে চালের দাম আরও কমতে পারে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছে প্রায় ১১ লাখ টন। গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১৪ লাখ টনের এলসি খোলা হয়েছে। আরও ১১ লাখ টনের বেশি চালের এলসি সেটেল্ড (স্থির) হয়েছে। এই বিরাট অঙ্কের নিম্নমানের চাল বাংলাদেশের চালের বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, আরও ফেলবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, এবার বোরো মৌসুমে ১ কোটি ৯২ লাখ টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১০ দিন পরই ধান কাটা শুরু হবে। এবার ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু ইতোমধ্যেই ধানের দাম কমে গেছে। গত বছর এই সময় যেখানে ধানের দাম ছিল প্রতিমণ সর্বনিম্ন ৭০০ টাকা। এবার সেখানে মণপ্রতি ধান কমে এসেছে ৫০০ টাকায়। তাই কৃষক পড়েছে দুশ্চিন্তায়। সামনে বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত কৃষক।

চালকল মালিক সমিতির সভাপতি লায়েক আলী চালের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, আমাদের কাছে (চালকল) আমন ধান পর্যাপ্ত রয়েছে। চাহিদা কম থাকায় অনেকে চাল উত্পাদন বন্ধ রেখেছে। বোরো মৌসুম আসছে। তাই চাল আমদানি বন্ধ হওয়া দরকার।