চাটমোহরের ‘পেয়ারা মেছের’

চাটমোহরের ‘পেয়ারা মেছের’

‘ইলাকার সবাই এখন আমাক পেয়ারা মেছের কয়েই ডাকে। সত্যি কথা কি, আমার ভালোই লাগে।  পেয়ারা বেচেই তো আমার ভাগ্য বদল হইচে। একটা ফলের বাগান করার স্বপ্ন দেকিচিলাম। পেয়ারা বাগান আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করিচে।’

নিজের পেয়ারা বাগান দেখিয়ে ঘরের বারান্দায় বসে পেয়ারা মাপতে মাপতে ভাগ্য বদলে যাওয়ার গল্প এভাবেই বলছিলেন পেয়ারা চাষি মেছের আলী (৫০)। পাবনার চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে ৫ কিমি দূরের ছাইকোলা ইউনিয়নের চলনবিলের পাড়ে বোয়ালমারী গ্রামে তার বাড়ি। পেয়ারা বেচে তার আর্থিক সচ্ছলতার গল্প শুনে সবাই অবাক। এটা পেয়ারার সময় না হওয়া সত্ত্বেও গাছে গাছে বিশাল বিশাল পেয়ারা। মেছের আলীর স্ত্রী রিজিয়া বলেন, নাতি বাবলুকে নিয়ে তিনিই বাগান দেখভাল করেন। মেছের আলী বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকেন। মেছের জানান, মেয়ের বাড়ি গুরুদাসপুরের কাছিকাটা বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিশ্বরোডের ধারে কালাম মিলিটারির পেয়ারা বাগান দেখে মনে ধরে যায় তার। জামাইকে দিয়ে ওই বাগানের চারা জোগাড় করার চেষ্টা চালান। ২০১৩ সালে রাজশাহীর চারঘাট থেকে বরিশাল জাতের বারোমাসি আপেল পেয়ারার চারা সংগ্রহ করেন তিনি। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩ বিঘা জমিতে ৬শ’ পেয়ারার চারা লাগিয়ে বাগান তৈরি করা হয়। খরচ হয় ১০ হাজার  টাকা। উত্পাদনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত খরচ হয় মোট ৬০ হাজার টাকা।

অমৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৩০ কেজি পেয়ারা বিক্রি করছেন। কেজি ৬০ টাকা। সে হিসাবে দিনে দেড় হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে।  মাসে ৪৫ হাজার। ৬ মাসে ২ লাখ ৭০ হাজার। মৌসুমের ৬ মাস প্রতিদিন গড়ে ৫ মণ। তখন কেজি প্রতি বিক্রি হয় ২০ টাকা। সে হিসাবে ২ লাখ টাকা। আর মৌসুম-অমৌসুম মিলিয়ে বছরে খরচ বাদে ৫ লাখ টাকা আয় হয়। সাফল্যের হাসি মাখা মুখে মেছের বলেন, ‘পৈতৃক ওই ৩ বিঘা জমি ছাড়া আমার তেমন কিছুই ছিল না। এখন আর পেছনে তাকাই না। এই বাগানের টাকায় ৪ বিঘা জমি কিনেছি ১০ লাখ টাকায়। আর এই পাকা বাড়ি ছয় কক্ষের দেখছেনই তো। সবই বাগান থেকে।’ রিজিয়া খাতুন বলেন, ‘এই পেয়ারা বাগানই আমাগারে সংসারের অভাব দূর করে দিচে। তবে অনেক কষ্ট করা লাগিছে। এমনি এমনি হয় নাই।