‘চলতি বছরে ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাতার যাবেন’

চলতি বছর কাজ নিয়ে কাতার যাবে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী। বছরের প্রথম দুই মাসে ৫০ হাজার কর্মীর ভিসা অনুমোদন দিয়েছে কাতার। এ ছাড়া চলতি বছরের বাকি ১০ মাসে আরও দেড় লাখ ভিসা আসবে। তাদের কাতার যেতে কোনো খরচ হবে না।
সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
গত ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল কাতার সফর করে। সফরে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আবদুল্লাহ সালেহ মুবারক আল খুলাইফিসহ দেশটির সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে জনশক্তি আমদানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।
সফরের সফলতা তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, কাতার সরকার বাংলাদেশ থেকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে অধিক সংখ্যায় কর্মী নিতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ কর্মী নেওয়ার সব ব্যয় কাতারের জনশক্তি আমদানিকারকরা বহন করবেন। গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার কর্মী কাতার যান।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ হবে কাতারে। এজন্য নতুন করে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও নগর উন্নয়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আগে কাতার কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে নেপাল, ভারত ও ফিলিপাইনকে অগ্রাধিকার দিত। এখন থেকে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেবে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে যেসব কর্মী নেওয়া হবে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শূন্য অভিবাসন ব্যয় বা বিনা খরচে বাংলাদেশি কর্মীরা কাতার যেতে পারবেন বলে জানান খন্দকার মোশাররফ।
তিনি বলেন, বর্তমানে কাতারের রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেয়। একজন কর্মীর কাতারে যেতে তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ হয়। এখন থেকে তা আর হবে না।
মোশাররফ হোসেন জানান, কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন, কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না। কাতারের জনশক্তি আমদানিকারকরা দূতাবাসের মাধ্যমে চাহিদাপত্র বাংলাদেশ সরকারকে দেবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকরা কর্মী পাঠাবে। সরকারের কাছে নিবন্ধিত কর্মীদের যে তথ্য ভাণ্ডার রয়েছে সেখান থেকে চাহিদার বিপরীতে তিন গুণ কর্মীর তালিকা দেওয়া হবে। সেখান থেকে রপ্তানিকারকরা বাছাই করে প্রশিক্ষিতদের পাঠাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ইফতেখার হায়দার, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার প্রমুখ।