প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতে তহবিল চান

বৈঠক শেষে সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ দূত গর্ডন ব্রাউনের সঙ্গে সাক্ষাত করে অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশে অটিজম সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারপারসন পুতুল।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্যে শিক্ষা নিশ্চিতকরণ বিষয়ক এক বৈঠকে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের আমন্ত্রণে এক বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, হাইতি, ভারত, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন ও সাউথ সুদানের পরিস্থিতি আলোচনা করা হয়। জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে বলা হয়, বাংলাদেশসহ এই ৮টি দেশে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ শিশু রয়েছে যারা স্কুলে যায় না। এ সংখ্যা সারা বিশ্বে শিক্ষা বঞ্চিত শিশুর অর্ধেক।

বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ তার বক্তব্য বলেন, দাতা সংস্থাগুলোর অনুদান আরো বাড়ানো হলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং বস্তির শিশুদের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনও বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।

বৈঠকের পর সায়মা হোসেন পুতুল গর্ডন ব্রাউনের সাক্ষাত করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পুতুল বলেন, বাংলাদেশের অবশিষ্ট ৫ শতাংশ শিক্ষাবঞ্চিত শিশুকেও স্কুলে নেয়া সম্ভব হবে, যদি ঐসব এলাকার স্কুলগুলোর শিক্ষক এবং অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হয়।

গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন পুতুল বলেন, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক শিশুর সাথে স্বাভাবিক আচরণ করতে হবে এবং মূলধারার স্কুলে তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার তার সাধ্য অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে অটিস্টিক শিশুর কল্যাণে। এখন প্রয়োজন দাতাসংস্থাগুলোকে সে সব উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানো।

শুক্রবার কানাডার উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন পুতুল।