সময় শ্রম ব্যয় সাশ্রয়ী ‘রাইস প্লান্টার’

সময় শ্রম ব্যয় সাশ্রয়ী ‘রাইস প্লান্টার’

ধানের চারা রোপণকারী যন্ত্র ‘রাইস প্লান্টার’ ধীরে ধীরে সিলেটের কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ইতিমধ্যে জেলার বেশ কটি উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকরা এটি ব্যবহার করে বেশ সুফল পেয়েছেন। তারা এই যন্ত্রের সাহায্যে চাষাবাদ করে বেশ আনন্দিত। এতে তাদের সময়, শ্রম ও ব্যয় কমেছে। আবার লাইন সোজা রেখে চারাও রোপণ করা যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ‘রাইস প্লান্টার’ ব্যবহার অত্যন্ত সাশ্রয়ী। যেখানে সনাতন পদ্ধতিতে এক বিঘা জমি চাষ করতে ৬-৭শ টাকা খরচ হয়। সেখানে ১৫০ টাকা খরচ করে মাত্র এক ঘণ্টায় এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করা যায়। আর এর জন্য এক লিটার পেট্রোল লাগে জ্বালানি হিসাবে। তারা বলেন, সব চেয়ে বড় কথা- এই ‘রাইস প্লান্টার’ ধান চাষে শ্রমিক সংকটের সমাধান এনে দিয়েছে। কারণ এর সাহায্যে একজন মাত্র চালক দৈনিক ২ একরেরও বেশি জমি চাষ করতে পারে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, এই যন্ত্রের সাহায্যে ধান চাষ করলে খরচ কমে, ধানের চারার লাইন সোজা থাকে যা ধান গাছ পরিচর্যা ও উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়। এছাড়া কম সময়ে চাষ শেষ হয় বিধায় সময়মত ফলন আসে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উত্পাদিত ফসল রক্ষা পায়।

সম্প্রতি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠ দিবসে কৃষকদের ‘রাইস প্লান্টারের’ সাহায্যে চাষবাসের বিষয়টি হাতে-কলমে শিখিয়ে দেয়া হয়। ওই ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ ভাবে যদি সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি কর্মসূচিগুলো চালু থাকে তা হলে কৃষকদের সমস্যার সমাধান হতে বেশি দিন লাগবে না।’

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলার প্রান্তিক চাষিদের জন্য দক্ষিণ সুরমায় ৪টি, সদরে ২টি, গোলাপগঞ্জে ২টি ও বিশ্বনাথে ২টি ‘রাইস প্লান্টার’ দেয়া হয়েছে ।

জানা গেছে, জেলায় জেলায় ডিলারের মাধ্যমে এই ‘রাইস প্লান্টার’ বিক্রিও হচ্ছে। এর দাম কোম্পানি ভেদে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে সরকার প্রান্তিক চাষিদের জন্য নির্ধারিত উপজেলায় এটি ৩০ ভাগ কমে বিক্রির ব্যবস্থা রেখেছে।