ঘরে বসেই মিলছে সরকারি সেবা

একটি হিসাব খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বা জন্ম নিবন্ধন ফরমের জন্য সিটি করপোরেশন, পৌর অফিস, ইউনিয়ন পরিষদে যাই যাই করে আর যাওয়া হচ্ছে না; অথবা ভোটার আইডি কার্ডের একটি ভুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শেষ করতে পারছেন না দীর্ঘদিন ধরে। এমন সামান্য অনেক কাজ থাকে যা ছোট মনে হলেও মুহূর্তের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় হয়ে ওঠে। ফরম পূরণ করে জমা দিলেই কাজটি শেষ হয়। সংশ্লিষ্ট অফিস দূরে থাকায় কাজের চাপে ফরম আনতে যাওয়া হয়ে ওঠে না অনেকের। এ ছাড়া ফরম সংগ্রহ করতে গেলে দুই টাকার ফটোকপিও নিতে হচ্ছে ২০ টাকায়। ফলে আপনি অতীব প্রয়োজনীয় সেবাটিও সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না। এমন বিড়ম্বনা নাগরিক জীবনে নেহাত কম নয়। তবে আশার কথা, এখন ঘরে বসেই পাওয়া যাবে ১৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৩৮ ধরনের সেবা ফরম।সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জাতীয় তথ্য বাতায়নের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ফরম’ নামের একটি ওয়েব পেজ থেকে মিলছে এসব ফরম। ‘সকল সেবার ফরম এক ঠিকানায়’ স্লোগানে সরকারি অফিসের সেবা মানুষের নাগালে নিতে এটি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমের অধীন এটুআই প্রকল্পের একটি পদক্ষেপ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এটুআই প্রকল্পের এই উদ্যোগে ওয়েবসাইট (িি.িভড়ৎসং.মড়া.নফ) থেকে অর্থ-ব্যাংক-বাণিজ্য শাখায় পেশাজীবীর আয়কর রিটার্ন ফরম, ব্যাংকের সব ধরনের হিসাব খোলার ফরম, এসএমই ব্যবসা পরিকল্পনা ফরম, শিল্প কারখানা স্থাপনের আবেদন, পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় ফরম, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নতুন গ্যাস সংযোগের আবেদনসহ ১২৫ ধরনের ফরম, আইন-শৃঙ্খলা ও আদালত সংক্রান্ত ১৩৯ ধরনের ফরম, চাকরি সংক্রান্ত ৮৫ ধরনের ফরম, কৃষি-খাদ্য ও পরিবেশ সংক্রান্ত ৮৬ ধরনের ফরম, শিক্ষা সংক্রান্ত ২১৮টি ফরম, ভূমি সংক্রান্ত ৬৬টি ফরম, স্থানীয় সরকারের ৫২টি, তথ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ৩৬টি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরকারি সেবার ৩৬টি এবং শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, মেশিন রিডেবল ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধনী জন্য আবেদন ফরমসহ ১৯৪ ধরনের সরকারি ফরম মিলছে এখানে।এটুআই প্রকল্পের পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার বলেন, দেশের মানুষকে যতটা সম্ভব হয়রানিমুক্তভাবে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। তাই সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই সেবাটি ব্যাপকভাবে চালু করা হয়েছে।

এটুআইর কর্মকর্তারা জানান, বিআরটিএর ২৩টি, বিআরটিসির ১৭টি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ৬৩টি, ভূমি সংস্কার বোর্ডের ৩৮টি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ২৪টি, ঢাকা বোর্ডের ২৯টি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সাতটি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি, আইন ও বিচার বিভাগের ৬৩টি, আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিনটি, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর ২৪টি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ২৩টি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৩০টি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫০টি, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ১৮টি, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের একটি, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের একটি, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসের দুটি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাতটি, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, খুলনা সিটি করপোরেশনের পাঁচটি, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের তিনটি, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একটি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনটি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তিনটি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের একটি, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের একটি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাতটি, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পাঁচটি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তিনটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একটি, ডেমো সাইট ০০৭-এর দুটি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি, তথ্য কমিশনের ছয়টি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তিনটি, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের দুটি, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ৩৬টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ছয়টি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চারটি, নজরুল ইনস্টিটিউটের তিনটি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০টি, ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের একটি, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের একটি, পরিকল্পনা বিভাগের সাতটি, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ২২টি, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চারটি, পরিবেশ অধিদপ্তরের পাঁচটি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পাঁচটি, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের পাঁচটি, প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়ের দুটি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তিনটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তিনটি, প্রশিক্ষণ সাইটের তিনটি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঁচটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটারের একটি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের চারটি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ১০টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের একটি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর চারটি, ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের তিনটি, ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের একটি, অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের ১৮টি, বোয়েসেলের একটি, কপিরাইট অফিসের একটি, বিসিসির ১৪টি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৪টি, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ৫টি, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ১০টি, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের একটি, জাতীয় জাদুঘরের একটি, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের একটি, টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের পাঁচটি, টেলিকমিউনিকেশনস রেগুলেটরি কমিশনের নয়টি, ডাক বিভাগের ছয়টি, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাঁচটি, নির্বাচন কমিশনের ১২টি, পরমাণু শক্তি কমিশনের তিনটি,পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের একটি, পর্যটন করপোরেশনের তিনটি, পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের পাঁচটি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি, পিআইবির একটি, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের একটি, বিসিএসআইআরের চারটি, বেতারের একটি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ১২টি, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের একটি, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি, রেলওয়ের একটি, বিপিএটিসির আটটি, ব্যানবেইসের সাতটি, বিটাকের দুটি, পিএসসির ১০টি, সাবমেরিন কেবল কোম্পানির একটি, স্কাউটসের দুটি, বিএসটিআরের একটি, হজ অফিসের চারটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১০টি, ইউজিসির দুটি, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ২৭টি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২১টি, রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একটি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৩টি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আটটি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ১১টি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডর ছয়টি, সিলেট বোর্ডের দুটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তিনটি, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তিনটি, মৎস্য অধিদপ্তরের নয়টি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি, যশোর বোর্ডের তিনটি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১২টি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দুটি, রাজউকের ১০টি, রাজশাহী বোর্ডের ১০টি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৪টি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চারটি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, সমবায় অধিদপ্তরের চারটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পাঁচটি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, সাধারণ বীমা করপোরেশনের দুটি, সিড সার্টিফিকেশন এজেন্সির ১১টি, সেতু বিভাগের একটি, এলজিইডির ২১টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫টি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের ১৫টি, এসএমইএফের দুটি ফরম ওয়েবসাইট থেকে যে কোনো স্থানে বসেই সংগ্রহ করা যাবে।