পোশাকের দর ও রপ্তানি বাড়াতে রাজি কানাডার ক্রেতারা

বিজিএমইএ’র সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক

বাংলাদেশ থেকে বাড়তি তৈরি পোশাক ক্রয় এবং বাড়তি দাম দিতেও কানাডার ক্রেতারা রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন কানাডার হাইকমিশনার বেনওয়ে পিয়েরে ল্যারোমি। তবে এ জন্য কমপ্লায়েন্স এবং শ্রমিক অধিকারের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীতে বিজিএমইএ ভবনে সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। কমপ্লায়েন্সের শর্ত প্রতিপালনে চলমান সংস্কার চালিয়ে যাওয়া এবং সরকার-মালিক-শ্রমিকের মধ্যে কার্যকর সংলাপেরও পরমর্শ দেন তিনি। পোশাক খাতের উন্নয়নে চলমান সংস্কার কাজের প্রশংসা করলেও আরো অনেক সংস্কার বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পোশাকের গুণগত মানের প্রশংসা করে গত কয়েক বছরে কানাডায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পোশাকখাত প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ হতে পোশাক খাতের অবদানই হবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৬০ লাখ ডলার থেকে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় রপ্তানি হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর মধ্যে পোশাক পণ্যই ছিল ৯৬ শতাংশ।

বাংলাদেশের পোশাক খাতকে সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে কানাডা। কানাডা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এদেশের পোশাক খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে। আইএলও’র মাধ্যমে সরকারের পোশাক খাত সংস্কার কর্মসূচিতে নেদারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ৮০ লাখ ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় শ্রমিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণেও সহায়তা দিচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে শুল্কমুক্ত সুবিধা না পেলেও বাজার ধরে রাখতে এখনই বাংলাদেশের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি রানা প্লাজা ধসের পর এ খাতের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, কানাডায় রপ্তানিতে চীনের অংশ এখন ৬০ শতাংশেরও বেশি। অথচ বাংলাদেশের অংশ ১১ শতাংশেরও কম। গত আট মাসে পোশাক রপ্তানি আরও কমেছে। এ সময় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, পোশাক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে ব্যয় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের সংকটের কথাও তুলে ধরেন।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, রিয়াজ বিন মাহমুদ, সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক হাসান প্রমুখ।