টিকাদান কর্মসূচিতে পিসিভি ও আইপিভি টিকার সংযোজন

শিশুদের নিউমোকক্কালজনিত নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধ এবং দেশের পোলিওমুক্ত অবস্থা বজায় রাখার জন্য সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচীতে পিসিভি ও আইপিভি টিকা সংযোজন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার এ দু’টি টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় তাঁর উপস্থিতিতে কয়েকজন শিশুকে পিসিভি ও আইপিডি টিকা দেয়া হয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে এ দু’টি টিকা সারাদেশে নির্দিষ্ট বয়সী শিশুদের দেয়া শুরু হয়। ঢাকা শিশু হাসপাতালের মিলনায়তনে এই দু’টি টিকাদান কার্যক্রমের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: দীন মো: নূরুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: নূর হোসেন তালুকদার, ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা: মনজুর হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা: এন পারানিথারান, ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি: এডওয়ার্ড বিগবিদার প্রমুখ।

উদ্বোধন করা দু’টি টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে মা ও শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমেছে। স্বাস্থ্য সেক্টরের ব্যাপক উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত করার পাশাপাশি নেয়া হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। প্রতি বছর মোট শিশুমৃত্যুর শতকরা ২২ ভাগ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। নিউমোনিয়ার বিভিন্ন কারণগুলোর মধ্যে নিউমোকক্কাল জনিত নিউমোনিয়া অন্যতম। পিসিভি টিকা দেয়ার ফলে এ রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করা যাবে। একই সঙ্গে শিশুমৃত্যুও অনেক কমে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশ পোলিওমুক্ত হলেও আমাদের পোলিও মুক্ত অবস্থা বজায় রাখতে হবে। সরকারের নেয়া এ পদক্ষেপে সকলের সহযোগিতা এবং এ কার্যক্রমের সফলতা কামনা করছি। নির্দিষ্ট বয়সী সকল শিশুই যেন এই টিকা নিতে পারে, সেজন্য ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে সকলকে সচেতন করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দেশের সকল রাজননৈতিক দলকে আসন্ন সিটি নির্বাচেন অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হবে। দেশে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। নির্বাচনী আমেজ অনুভূত হচ্ছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের এই সুযোগ গ্রহণ করা উচিত। নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের সঙ্গে সংলাপ করুন। জনগণকে স্বাধীন মতামত প্রদানের সুযোগ দিন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জনগণকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়াটাই গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে, আয়োজকরা জানান, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার জন্য ‘ নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন(পিসিভি)’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পিসিভি টিকা ছাড়াও দেশে পোলিও মুক্ত অবস্থা বজায় রাখতে সরকার বর্তমান ইপিআই কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রদত্ত ওপিডি টিকার পাশাপাশি শিশুদের ইকে ডোজ ‘ইনএ্যাকটিভেটেড পোলিও ভ্যাকসিনও (আইপিডি) দেয়া হবে।