নীল অর্থনীতিবিষয়ক সম্মেলন

ভারতের ভুবনেশ্বরে আজ থেকে তিন দিনব্যাপী নীল অর্থনীতিবিষয়ক একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক এতে অংশ নিচ্ছেন। নীল অর্থনীতি বলতে সমুদ্র ও সমুদ্রসংক্রান্ত অর্থনীতি বোঝানো হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় আমাদের কাছে এর গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বিশাল সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সমুদ্রসম্পদ আহরণের কাজটি খুব সহজ নয়। এসব কাজ ব্যয়বহুলও বটে। এ খাতে সহযোগিতার জন্য সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। এসব দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সেই ক্ষেত্রটি তৈরি হতে পারে। এখানেই নীল অর্থনীতিবিষয়ক সম্মেলনের গুরুত্ব।
আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে নীল অর্থনীতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ উপকূলবর্তী দেশগুলো নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি আঞ্চলিক জোট গঠনে আগ্রহী। গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নীল অর্থনীতিবিষয়ক এক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমন একটি প্রস্তাব দেয়াও হয়েছিল। ধারণাটি ভালো এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে সমস্যা মিটে যাওয়ায় এ ধরনের আঞ্চলিক জোট গঠনের বাধাও অপসারিত হয়েছে। এমন একটি জোট গঠিত হলে দেশগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহন ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, মৎস্য সম্পদ আহরণ, অ্যাকুয়াকালচার, তেল ও গ্যাসসহ সমুদ্র তলদেশের সম্পদ আহরণ, সমুদ্র নিরাপত্তা, পর্যটন ইত্যাদি বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যও বাড়বে। কাজেই এ সহযোগিতার ক্ষেত্র যত দ্রুত প্রস্তুত হয় ততই মঙ্গল। এ লক্ষ্যে ঘন ঘন এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করা উচিত। এর মধ্য দিয়ে সমুদ্র সম্পদ আহরণের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত হবে। সমস্যা উত্তরণের পথ বেরিয়ে আসবে। একসময় পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সব সমস্যা দূর করা সহজ হবে। ভুবনেশ্বরে চলমান সম্মেলনেও সেই দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা।