স্বাধীন হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করছে : অমর্ত্য সেন

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বলেছেন, স্বাধীন হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করছে। বাসস।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একনিষ্ঠ সমর্থক এই অর্থনীতিবিদ তার বক্তব্যে, খবরের কাগজ ও টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকার এবং উন্মুক্ত আলোচনায় বলেছেন, এদেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন না করলে কখনোই বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারত না।
‘স্বাধীনতার পরই বাংলাদেশে অনেকগুলো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে’_ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন বিষয়ক এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ যতক্ষণ না মুক্ত, স্বাধীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে বাস করতে পারে ততক্ষণ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত ‘ দ্য ভিশন অ্যান্ড দ্য জার্নি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নোবেল বিজয়ী সেন বলেন, ‘বাংলাদেশের যে অর্জন হয়েছে, তার জন্য এদেশের মানুষের গর্ব করা উচিত।’ বিশেষ বিশেষ অর্জনগুলো উল্লেখ করে প্রখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ বলেন, স্বাধীনতার চলি্লশ বছরে দেশের পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে একটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করেছে, মানবিক উন্নয়ন ও জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে, ২৫ মিলিয়ন নারীকে ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এনেছে এবং অভিবাসীদের প্রেরিত মোটা অঙ্কের রেমিট্যান্সের কারণে বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
অধ্যাপক সেন স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অগ্রগতির ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘যারা একসময় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যায়িত করেছিল তারা আজ এদেশকে উন্নয়নের মডেল মনে করছে।’
তিনি পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষায় দেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভুক্তভোগী হিসেবে বাংলাদেশের উচিত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেয়া। কারণ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশকে সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
এছাড়াও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জনও অসাধারণ এবং এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ভারতের থেকেও এগিয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ উন্নয়ন ঘটেছে, কিন্তু সস্ত্রাস, ধর্মান্ধতা এবং অব্যাহত সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণে পাকিস্তানের অবস্থান অনেক নিচে নেমে গেছে।
কোলকাতার জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২৩ বছর বয়সে শিক্ষকতা শুরু করে বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক আল জাজিরা টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে নারীর শক্তিকে কিভাবে কাজে লাগাতে হয় সে সম্পর্কে বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
অধ্যাপক সেন বলেন, ‘প্রায় সবগুলো সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে,’ তিনি বলেন, ‘নারী ও জেন্ডার বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে যে শিক্ষা নেয়ার আছে তা হলো কেবল রাষ্ট্রীয় নীতিমালার কারণে নয়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উদ্যোগের কারণেও সে অর্জন হয়েছে।
তিনি নীতিমালা প্রণয়নে নারীদের মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শ্রমবাজারের একটি বড় অংশ যেমন স্কুল শিক্ষক, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, স্বাস্থ্য সেবিকা, টিকাদানকারী কর্মী, এবং এমনকি কারখানা শ্রমিক হিসেবেও বাংলাদেশের নারীরা ভারতের চেয়ে বেশি কাজ করছে।