ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের নারীরা

বাংলাদেশের নারীরা আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতকে পেছনে ফেলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মাস্টার কার্ডের পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া যায়। যদিও এ জরিপে বলা হয়েছে, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের শিক্ষার মান পুরুষদের চেয়ে বেশি তবে জেন্ডার বৈষম্যের ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতি বেশ শ্লথ। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

জরিপে উল্লেখ করা হয়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্যবসায় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জেন্ডার বৈষম্য তথা নারী-পুরুষের মধ্যকার বিভেদ তুলনামূলক বেশি। তবে জরিপে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ড-দেশটির স্কোর ৭৭। এরপরই আছে অস্ট্রেলিয়া (৭৬), ফিলিপাইন (৭২.৬) এবং সিঙ্গাপুর (৭০.৫)। আর এশিয়ার মধ্যে শ্রীলঙ্কার স্কোর (৪৬.২), বাংলাদেশের স্কোর (৪৪.৬) এবং ভারতের (৪৪.২)। জরিপে উল্লেখ করা হয়, যে দেশগুলো ৫০ এর নিচে স্কোর করেছে তাদের নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য বেশি। অর্থাৎ এসব দেশে নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের জন্য আরও কাজ করতে হবে। আর বাংলাদেশকেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে জরিপে আরও বলা হয়, যেসব দেশ ১০০ এর নিচে স্কোর করেছে এই দেশগুলোতে নারী-পুরুষের বৈষম্যের জন্য পুরুষরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, আর যে দেশগুলো ১০০ এর ওপর স্কোর করবে সেখানে নারী-পুরুষের বৈষম্যের জন্য নারীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। আর স্কোর ১০০ হলে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা থাকবে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডে পুরুষদের থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

অন্যদিকে ভারত, দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের মহিলারা পুরুষদের তুলনায় কম সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। বিশেষ করে এসব দেশের নারীরা, নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে তথা কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ধীরগতিতে কাজ করছে।

মাস্টার কার্ডের গ্রুপ প্রধান জর্জেট টান এ জরিপ প্রসঙ্গে বলেন, একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে কোম্পানিগুলো বুঝতে পেরেছে যে, স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে নারী নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে। উল্লেখ্য, এ জরিপটি অনলাইনে ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে পরিচালিত হয়। যা নারী দিবসে প্রকাশ করা হয়।