প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে মেয়ের সংখ্যাই বেশি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে মেয়ের সংখ্যাই বেশি

দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী অগ্রযাত্রার এক অভাবনীয় চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর সেটা হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ছেলেদের চেয়েও বেড়েছে। যেখানে ১৯৯১ সালে প্রাথমিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ৪৫ শতাংশ, ২০০০ সালে ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সেখানে ২০১৩ সালের সর্বশেষ জরিপে মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ দাঁড়িয়েছে অর্ধেকেরও বেশি (৫০ দশমিক ২ শতাংশ)। এছাড়া মাধ্যমিকেও নারীর অংশগ্রহণ বেশি (৫৩ দশমিক ১৬ শতাংশ) পাওয়া গেছে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারীরা পিছিয়ে থাকলেও অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়ছে।

শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘৯৬ সালের পর থেকেই দেশে নারী শিক্ষায় ইতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভালো দিক। সরকারগুলো একাধিক নারীবান্ধব নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়ন করছে। উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ছিল। এখন এটি ডিগ্রী পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। মেয়েদের শিক্ষার চাহিদাও তৈরি হয়েছে। মেয়েদের পেছনে বিনিয়োগ করলেও যে ভালো ফল বয়ে আনে তার প্রমাণও পাচ্ছেন অভিভাবকরা।’

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো-ব্যানবেইসের সর্বশেষ (২০১৩) জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাথমিকে পড়ছে ১ কোটি ৯০ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ১০২ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তরে মোট শিক্ষার্থী ৮৫ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৪৫ লাখ ১৯ হাজার ৯১ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী ২০১৪ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ওই বছর ১০ লাখ ৭৬ হাজার ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর ছাত্র অংশ নেয় ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৮ জন। অর্থাত্ জেএসসি পরীক্ষায় ছাত্রী অংশ নেয় ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ছাত্র ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। একই বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৮১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৫ জন, যা মোট অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রাথমিকে নারী শিক্ষকের সংখ্যাও বেশি। তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০ সালে প্রাথমিকে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৯২ জন (২০.৫৭%), ২০০১ সালে ৬১ হাজার জন (৩৭.৬%) ও ২০০৬ সালে ৭৫ হাজার ৪২৭ জন (৪৬.৫%)। সর্বশেষ (২০১২) জরিপে দেখা গেছে, প্রাথমিকে মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯৯ শিক্ষকের মধ্যে ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৮৭ জনই নারী। যা মোট শিক্ষকের ৫৮.২ শতাংশ।

বিশ্ব লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিবেদন ২০১৪ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ১শ মেয়ে শিশুর মধ্যে ৯৩ জন এবং প্রতি ১শ ছেলে শিশুর মধ্যে ৯০ জন প্রাথমিকে ভর্তি হয়। এছাড়া মাধ্যমিকেও প্রতি ১শ ছাত্রের মধ্যে ৪৪ জন এবং প্রতি ১শ ছাত্রীর মধ্যে ৫১ জন ভর্তি হয়।

জেনেভা ভিত্তিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ওই প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মাধ্যমিক শিক্ষায়ও নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এই অঞ্চলের প্রথম ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ।

শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে অভিভাবক আফরিন সুলতানার ভাষ্য, প্রায় সব ক্ষেত্রে শিক্ষায় নারীদের সমতা অর্জিত হচ্ছে। এর কারণ হলো সচেতনতা বাড়ছে। অভিভাবকরা শিক্ষার মূল্য বুঝতে শুরু করেছেন। তাছাড়া এখন সবাই বিনামূল্যে বই পাচ্ছে, নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক উপবৃত্তি। সব মিলে শিক্ষা নারী সহায়ক হয়েছে। এখন উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।