সাদুল্যাপুরে শতাধিক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরীর চাষ

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রাম এখন স্ট্রবেরী চাষীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর কারণ উপজেলার চারটি গ্রামের ২৬ জন কৃষক এখন শতাধিক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরীর চাষ করছেন। সেখানকার উদ্যোক্তাদের এমন সাফল্য দেখে দলে দলে মানুষ ছুটছেন জমিতে ফুলের মত ফুটে থাকা স্ট্রবেরী দেখতে। কেবল পুষ্টিমানের জন্য নয়, চোখ জুড়ানো ফলটি দেখলেও মন ভরে যায়। ঢাকা থেকে সাদুল্যাপুরের গ্রামের বাড়িতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা শাম্মী নাজনীন শাপলা বললেন, সাদুল্যাপুরে মাটিতে সব ধরনের ফসল অন্য এলাকা থেকে বেশী ফলে। কিন্তু স্টবেরীর বিষয়টি জানা ছিল না। এবার দেখে অবাক হয়েছি।

এলাকাবাসী ও স্ট্রবেরী চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সখ করে দুই বছর আগে মাত্র তিন বিঘা জমিতে স্ট্রবেরীর চাষ শুরু করেন তাজনগরের কৃষক মোখলেছুর রহমান বিপ্লব। তখন অনেকেই বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন। আর এখন ওই উপজেলার চারটি গ্রামের ২৬ জন কৃষক শতাধিক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরী চাষ করছেন। স্ট্রবেরীর মাঠে কাজ করছেন গ্রামগুলোর পাঁচ শতাধিক দরিদ্র নারী-পুরুষ। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তারাও খুশি। কৃষি শ্রমিক আ : সালাম বললেন, ২ হাজার থেকে শুরু করে কেউ কেউ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছে।

স্টবেরী চাষের পাইওনিয়র মোখলেছুর রহমান বিপ্লব জানান, এই মৌসুমে সপ্তাহে দুই দিন ট্রাকে করে তিনি স্ট্রবেরী ঢাকার কারওয়ান বাজারে সরবরাহ করেন। সময় বিশেষে স্ট্রবেরী প্রতি কেজি ৫০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করছেন তিনি। তিনি আরও জানান, স্ট্রবেরী চারা থেকেই জন্ম নেয় নতুন চারা। ফলে নতুন করে কোন চারা কিনতে হয় না।এখন তার বিনিয়োগ পরিচর্যায়, আর কৃষি শ্রমিকদের জন্য। তার ধারণা কৃষকদের স্টবেরী চাষের জন্য কৃষিঋন পাওয়া গেলে চাষে বিস্তার ঘটানো সহজ হত। এদিকে আরেক স্ট্রবেরী চাষী আলেফা বেগম জানান, বিপ্লবের দেখাদেখি আগ্রহী হয়ে চার বিঘা জমিতে স্ট্রবেরী চাষ করেছেন তিনি। আশা করেছিলেন লাভবান হবেন। হতোও তাই। কিন্তু হরতাল-অবরোধে সময় মত ঢাকায় ফল পাঠাতে পারছেন না। ফলে একদিকে স্ট্রবেরী নষ্ট হচ্ছে, আর মূল্যেরও তারতম্য ঘটছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ কাজে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন কৃষকদের অর্থনৈতিকসহ নানা সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে কৃষকরা যদি ব্যাংক ঋনের চেষ্টা করেন তবে তাদের ঋন গ্রহণে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।