পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়ঃ কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৩২ লাখ

বিশেষ প্রতিনিধি

সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও টেকসই রাখতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১ কোটি ৩২ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হলে জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ১৬ ভাগে নেমে আসবে। কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকার যে কাজ করবে তা হলো_ কারিগরিভাবে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। এ জন্য প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। এ ছাড়াও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে সরকার ব্যয় বাড়াবে যাতে করে বেসরকারি খাত বেশি মাত্রায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল আইএমএফের উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন।
আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডেপুটি ডিভিশন চিফ রডরিগো কিউবেরোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত গতকালের সভায় পরিকল্পনা সচিব সফিকুল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামছুল আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রলাণয়ের কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে আইএমএফের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ৬টি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বিষয় ৬টি হলো_ অবকাঠামো খাত, প্রয়োজনীয় জমির প্রাপ্যতা, আর্থিক খাতে ঝুঁকি মোকাবেলা ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ এমডিজি-পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে মোকাবেলা করবে তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। বাংলাদেশের প্রয়োজন ওই ৬টি বিষয়ে সার্বিক সফলতাকে আরও বাড়ানো। তাহলেই বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে জমির প্রাপ্যতা বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে অন্যতম প্রধান বাধা। তারা মনে করেন, বাংলাদেশ অবকাঠামো খাতে যেভাবে এগোচ্ছে তা অচিরেই শিল্প বিনিয়োগকে আকর্ষণ করবে। তবে ভূমির প্রাপ্যতার বিষয়টিসহ আর্থিক খাতে সংস্কার সরকারকে প্রাধান্য দিয়ে দেখতে হবে।
আইএমএফের এই পর্যালোচনার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ বছরই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়ক সম্পন্ন হবে। পদ্মা সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান। রামপাল, পায়রা ও মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। পায়রা ও মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপিত হলে এ দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেড় থেকে দুই ভাগ বেড়ে যাবে। মন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত সরকারি জমি অলস পড়ে রয়েছে তা বিনিয়োগে ব্যবহার করবে সরকার। দেশের উত্তরাঞ্চলে অনেক জমি রয়েছে যা কোনো কাজে লাগানো হয়নি। এ জমিগুলোকে বিনিয়োগের আওতায় আনবে সরকার। এছাড়াও সরকার নদীগুলোতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নদীর দু’পাড় উঁচু করবে। এই দু’পাড়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। আগামী পাঁচ বছরে সরকার সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করবে।