বাড়ল ৪০০ শয্যা : ৫০ ভাগ সেবা বিনামূল্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের বহির্বিভাগে পাঁচ বছর আগে একদিনে গড়ে রোগীর সংখ্যা ছিল ১৯০০। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে হলো ৫ হাজার। বেডের সংখ্যা ছিল ১১০০, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০০-তে। অর্থাৎ ৪০০ বেড বেড়েছে। এর মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ বেড রোগীদের জন্য বিনামূল্যে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার বিএসএমএমইউতে দ্বিতীয় সমাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সমাবর্তন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউর প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, বিএসএমএমইউতে  কেবিনের সংখ্যা ৬২ থেকে ১২৪-এ উন্নীত করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের সংখ্যা ৩৫টি বেড়ে মোট সংখ্যা হয়েছে ৫৬। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) শয্যা সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩৭ এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) শয্যা সংখ্যা ১৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে পাঁচ বছরে বিএসএমএমইউর অর্জন ও অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়, উন্নত বিশ্বের মতো স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষায় রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম চালু করা হয়। দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০০ বিদেশি রেসিডেন্ট-ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। রিউমাটোলজি বিভাগ, অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ চালু করা হয়। সেন্টার ফর নিউরোডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অটিজম ইন চিলড্রেন, পেলিয়েটিভ কেয়ার উইং, রেসপিরেটরি মেডিসিন উইং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে প্রায় ৪০০ গবেষণা পরিচালনা শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৬টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্সি ফেস-২ বিএসএমএমইউ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাফল্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় কেবিন-ব্লকের উত্তর দিকে ১২ বিঘা জমি পেয়েছে।

এছাড়া কোরিয়ার সহজ শর্তের ঋণ সহযোগিতায় ৭০০ শয্যার একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্দেশ্যে সমঝোতা স্মারক এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পঙ্গু ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ কোটি টাকার আয় থেকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা এবং বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণাসহ সার্বিক উন্নতি সাধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে এরই মধ্যে ৪৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবার উন্নতির লক্ষ্যে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে বৈকালিক শিফট চালু করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন মিয়া, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা, প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়ল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান প্রমুখ।