বাড়ছে সবজি রপ্তানি

কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। লাল-সবুজ পতাকার এ দেশে সবুজ মাঠে ছয় ঋতুতেই ফলে শত জাতের সবজি, অনেক রকমের ফসল। তবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে কৃষক দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করে গেলেও অনেক সময় তাদের খরচের পয়সাও ওঠে না। এমনকি বাম্পার ফলনের পরও সংরক্ষণ সুবিধার অভাব, রাজনৈতিক দুর্যোগে সরবরাহপ্রক্রিয়া ভেঙে যাওয়াসহ নানা কারণে কৃষকের মাথায় বাজ পড়ে। এ বছরও লাখ লাখ চাষি হরতাল-অবরোধে তাদের পণ্য নিয়ে যখন দিশাহারা তখনই একটা সুখবর এসেছে উত্তরাঞ্চল থেকে। গতকালই কালের কণ্ঠের এক খবরে বলা হয়, কুড়িগ্রাম থেকে আলু যাচ্ছে রাশিয়ায়। রংপুরের মিষ্টি কুমড়া যাচ্ছে ইউরোপের দেশ রাশিয়া, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায়- এমন তথ্য জানা যায় আরেক জাতীয় দৈনিক সূত্রে। অনেক দুঃসংবাদের ভিড়ে এমন খবর ভরসা জাগায়।

বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো এভাবে আমাদের জন্য বড় বার্তা নিয়ে আসে। তবে যথাসময়ে তার মর্ম উপলব্ধি করতে হয়। নিতে হয় সে অনুযায়ী ব্যবস্থা। উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত ফসল বিদেশে নিয়মিত পাঠানো গেলে ও তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলে দারিদ্র্যপীড়িত ওই অঞ্চলটির কৃষকদের আর ঢাকা বা স্থানীয় অন্য কোনো বাজারের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। অনেক সময় বাম্পার ফলন হলে চাহিদা পূরণের পর ফসল তার উপযুক্ত দরও পায় না। তখন পানির দরে সব বিকিয়ে দিতে হয়। এ জন্য হলেও বিদেশের বাজার ধরার ক্ষেত্রে আমাদের আরো উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নজর দিতে হবে সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন, প্যাকেজিং পদ্ধতির আধুুনিকায়ন এবং নিরাপদ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের ওপরও।

বর্তমানে রপ্তানির শুভ সূচনাটি হয়েছে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাত ধরে। বেসরকারি এ খাতকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের পাশাপাশি সরকারি অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সহায়তা দানের লক্ষ্যে সরকারের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্তরে দাপ্তরিক কাজেই তাঁরা বেশি ব্যস্ত থাকেন; তৃণমূলের চাষিদের সঙ্গে তাঁদের বাস্তবিক সংযোগ আর তৈরি হয় না। এ দূরত্ব কাটাতে হবে।

আর শুধু উত্তরাঞ্চল কেন, সমতলভূমির দেশ বাংলাদেশজুড়েই কত রকমের ফসল ফলে। তাই প্রণোদনা হতে হবে সর্বজনীন। সেই সঙ্গে দেশের বাইরে নতুন নতুন বাজারও অনুসন্ধান করতে হবে। আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি কৃষি। খাতটিকে শক্তিশালী করা গেলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে, মসৃণ হবে সহস্রাব্দ লক্ষ্যে পৌঁছার পথটি। কৃষকদের জন্য সরকারের তরফে কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণে ভর্তুকিসহ নানা ব্যবস্থা থাকলেও এ নিয়ে চলে দুর্নীতি। এসব দূর করতে হবে। কৃষকরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবে, বেগবান হবে জাতীয় অর্থনীতি- এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।