অটোরিকশা চালকের সততা

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা

অটোরিকশা চালকের সততা

ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার চালক আবুল কাশেমের বয়স সতেরো কি আঠারো হবে। এই বয়সে পড়াশোনা করার কথা থাকলেও সংসারের অসচ্ছলতার কারণে সে স্কুলে যায়নি কোনদিন। বাবা-মা আর পাঁচ ভাই-বোনের সংসারের দায় এখন তার কাঁধেই। তবু লোভ ছুঁতে পারেনি তাকে। গত রবিবার তার অটোরিক্সায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া ছয় ভরি স্বর্ণের অলঙ্কার ও নগদ সাড়ে আট হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে আবুল কাশেম। তার এই সততায় মুগ্ধ অটোরিক্সার যাত্রী, আর গর্বিত আবুল কাশেমের বাবা-মা।

তার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার লালপুকুর গ্রামে। বাবার নাম এরশাদ আলী। আবুল কাশেম জানায়, গত রবিবার বিকালে গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন গামা ও তার ভাবি শিমু বেগম প্রেমতলী বাজার থেকে তার গাড়িতে ওঠেন। এরপর তারা রাজশাহী নগরের ডিংগাডোবা মোড়ে নেমে যান। যাওয়ার সময় ফেলে রেখে যান শিমু বেগমের একটি ব্যাগ। কিছুক্ষণ পর ব্যাগটি নজরে আসে অটোরিক্সা চালক আবুল কাশেমের। ব্যাগটি পেয়ে যত্ন করে সংরক্ষণ করে সে। রাতে বাড়িতে গিয়ে খুলে দেখা যায়- ব্যাগের ভেতর একটি মুঠোফোন, নগদ সাড়ে আট হাজার টাকা, চারটি স্বর্ণের চেইন, দুই জোড়া কানের দুল এবং একটি করে আংটি, ব্রেসলেট ও মানটিপ। এরপর মুঠোফোনের সূত্র ধরে আলমগীর হোসেন গামার সঙ্গে যোগাযোগ করে সে এবং সোমবার সকালেই সব কিছু ফেরত দেয়। বিনিময়ে সে কিছুই গ্রহণ করেনি।