স্বল্প খরচের হাইড্রোফনিক্স পদ্ধতি উদ্ভাবন

 

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষ। আর এ বর্ধিত জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা মেটাতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে শিল্প কারখানা ও বড় বড় অট্টালিকা। ফলে জ্যামিতিক হারে কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। অন্যদিকে এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খাদ্য জোগান দিতে অল্প আয়তনের অবশিষ্ট জমিতে অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাহীন কীটনাশক ও আগাছানাশক। এতে অনুর্বর হয়ে উঠছে উর্বরা জমিগুলো। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে আবাদি জমি দিন দিন কমে গিয়ে যখন দেশ ভূমি সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্বের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. জাহিদুর রহমান আবিষ্কার করেন মাটি ছাড়া সবজি উৎপাদনের অভিনব পদ্ধতি। পদ্ধতিটির নাম লো কস্ট সিস্টেম অব হাইড্রোফনিক্স। এর অন্য নাম সয়েললেস কালচার বা মাটি ছাড়া চাষবাসের পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কম খরচে, অল্প সময়ে ও সহজে বর্তমান সময়ের চাহিদাসম্পন্ন সব ধরনের সবজি উৎপাদন করা যাবে। বাস ইউএসডিএ (ইঅঝ টঝউঅ)-এর অধীন এ পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘ চার বছর গবেষণা করেন তিনি। সম্প্রতি লেটুসপাতার ওপর গবেষণায় সফলতা লাভ করেন এই গবেষক। এ পদ্ধতিতে কর্কশিটের গ্রোয়িং মাধ্যম ব্যবহার করেন। এতে পরিত্যক্ত নারিকেলের ছোবড়া, স ডাস্ট, ধানের তুষ ও ছাই এবং গাছের বৃদ্ধির জন্য রহমান অ্যান্ড ইনডেন নামক এক ধরনের নিউট্রিয়েন্ট সলিউশন ব্যবহার করেন। সলিউশনটি বাংলাদেশসহ ট্রপিক্যাল দেশগুলোর কৃষকের কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে আবিষ্কার করেন তিনি; যা কৃষক সহজে তৈরি করে ব্যবহার করতে পারবে। এ সলিউশন ব্যবহার করে লেটুস রোপণের ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে হার্ভেস্ট বা সংগ্রহ করা যাবে; যা মাটিতে রোপণের চেয়ে অর্ধেক সময় কম লাগে। এ ছাড়া এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত লেটুস স্বাদে অধিক সুস্বাদু হয়, এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণও কয়েক গুণ বেশি থাকে মাটিতে উৎপাদিত লেটুসের চেয়ে।

দেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে হাইড্রোপনিক্সের ওপর জাপান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন গবেষক জাহিদুর রহমান। এ ছাড়া লো কস্ট সিস্টেমের অন্যান্য সুবিধা হলো_ এ মাধ্যমে কোনো ফসল দুই থেকে তিন বার চাষ করা যাবে। এটি সম্পূর্ণ কীটনাশক ব্যবহার-শূন্য। সম্পূর্ণ আগাছামুক্ত হওয়ায় পরিচর্যা খরচের প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া এটি রোগমুক্ত পদ্ধতি হওয়ায় এর উৎপাদন শতভাগ নিশ্চিত করা যায়।

এ ব্যাপারে গবেষক জাহিদুর রহমান বলেন, ছোট আয়তনের এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এ ধরনের পদ্ধতির বিকল্প নেই। এ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষক সহজে, অল্প সময়ে, কম খরচে সবজি উৎপাদন করতে পারবে। তিনি বলেন, মাটিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে লেটুস চাষ করলে প্রতি হেক্টরে পাওয়া যাবে ৩০ মেট্রিক টন। অন্যদিকে লো কস্ট সিস্টেম অব হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে লেটুস চাষ করলে প্রতি হেক্টরে পাওয়া যাবে ৩০০ মেট্রিক টন। এ পদ্ধতিতে কৃষক তথা বাণিজ্যিক চাষিরা সবজি চাষ করে দেশের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও গুণগত মানসম্পন্ন সবজি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন।

যুগান্তকারী এ ধরনের উদ্ভাবন সম্পর্কে শেকৃবি উপাচার্য প্রফেসর মো.শাদাত উল্লা বলেন, কৃষিপ্রধান এ দেশের জন্য এ ধরনের উৎপাদন পদ্ধতি সুফল বয়ে আনবে। এতে একদিকে কৃষক যেমন উপকৃত হবে অন্যদিকে দেশও সমৃদ্ধ হবে।