জয়পুরহাটে ‘মিউজিকা আলু’ চাষে সাফল্য

জয়পুরহাটের কালাইয়ে অল্প সময়ে অধিক ফলনশীল ‘মিউজিকা’ জাতের আলু চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় এক খামারি।

এ সাফল্যে অনুপ্রণিত হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষক এখন এ জাতের আলু চাষের দিকে ঝুঁকছে বলে জানান স্থানীয়রা।

‘মিউজিকা’ জাতের আলু আমদানিকারক ও উপজেলার বৈরাগীরহাট সাউথ পোল হিমাগারের ব্যবস্থাপক এস এম তারেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, নেদারল্যান্ড থেকে আমদানি করা ওই আলু পরীক্ষামূলকভাবে নিজ খামারের সাড়ে ২২ বিঘা জমিতে চাষ করেন তিনি।

নতুন জাতের ওই আলু চাষ করে ৬০ দিনের মাথায় উত্তোলন করেছেন তারা। যাতে শতক প্রতি ফলন হয়েছে সাড়ে ৪ মণ।

তিনি আরও জানান, অন্যান্য জাতের আলু চাষে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে, আর মিউজিকা জাতের আলু চাষে সময় লাগে ৬০-৬২ দিনের মতো। অল্প সময়ের মধ্যে ফলনও হয় অনেক।

অল্প সময়ে আলুর ভালো ফলন হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আগামীতে এ জাতের আলুর ব্যাপক চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মুহাম্মদ আহসান শহীদ সরকার ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজ আলম ওই মিউজিকা জাতের আলুর খামার পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদ সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মিউজিকা জাতের আলু কম খরচে চাষ করে, কম সময়ে অধিক অধিক ফলন পাওয়া যাবে।

তাছাড়া এ জাতের আলু আমাদের দেশের আবহওয়া সঙ্গে বেশ মানানসই বলে জানান তিনি।

বৈরাগীর হাটের আলু চাষি জাকারিয়া বলেন, “কম সময়ে কম খরচে বেশি ফলন হয় মিউজিকা আলুতে, এ কথা শুনে পরীক্ষামূলকভাবে আমি সাউথ পোল হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ করে ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি।

“মাত্র ৬০ দিনের মাথায় আলু তুলে প্রতি শতকে গড়ে সোয়া ৪ মণ হারে ফলন পেয়েছি। তাই আগামীতে আমার সব জমিতেই এ আলু চাষ করার কথা ভাবছি।”

পার্শ্ববর্তী বহুতি গ্রামের জাহেদুল ইসলাম, সাঁতার গ্রামের সায়েম আলী, বাইগুনি গ্রামের জালাল উদ্দিন, থুপসারা গ্রামের আতাউর রহমান, পাঠানপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকসহ এলাকার অনেক কৃষকরা জানান, অল্প সময়ে অধিক ফলনের আশায় আগামীতে মিউজিকা জাতের আলু চাষ করবেন তারা।