মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ, রিজার্ভ সাত গুণ বেড়েছে

বিএনপি আমলের (২০০১-০৬) চেয়ে আওয়ামী লীগ (২০০৯-১৪) আমলে দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো দ্বিগুণ থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে কর ও রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ এবং রপ্তানি আয় বেড়েছে তিন গুণ, বাজেটের আকার ও প্রবাসী-আয় (রেমিট্যান্স) চার গুণ, মাথাপিছু আয় ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ দ্বিগুণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাত গুণ বেড়েছে।
‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য তুলে ধরেন। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থনীতির বিভিন্ন দিকের তথ্য-সংবলিত ৩০ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে গত বুধবার। সেটি ধরেই সচিবালয়ে গতকাল শনিবার বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব নজিবুর রহমান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের চার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় অর্থমন্ত্রীর পাশে ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিএনপি আমলে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও দেশের গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আর আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্বমন্দা বজায় থাকা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এলেও দেশের গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। সরকারের বিচক্ষণ নীতি ও দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে কমে হয়েছে ২৬ দশমিক ২ এবং অতিদারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ২ থেকে অর্ধেকের বেশি কমে হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।
মুহিত জানান, বিএনপি আমলে মানুষের গড় আয়ু ৬৬ বছর ৬ মাস থেকে বেড়ে আওয়ামী লীগ আমলে ৭০ বছর ৩ মাস হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ দশমিক ২ থেকে বেড়ে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার ৭৮২ থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ২৮৬ মেগাওয়াট, প্রতি হাজারে শিশুমৃত্যু ৪৫ থেকে কমে ৩৩ জন হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিপ্লব সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন লেনদেন সহজ হয়েছে। প্রবাসী-আয় বেশি আসার কারণও এই মোবাইল ফোন।
মাঝখানে দুই বছর (২০০৭-০৮) তত্ত্বাবধায়ক সরকার বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। সংবাদ সম্মেলনে এই দুই বছরের প্রসঙ্গে কিছু বলেননি অর্থমন্ত্রী।
পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের (২০১৪-১৫) কিছু বিষয়ের চার মাস, কিছু বিষয়ের পাঁচ মাস ও কিছু বিষয়ের ছয় মাসের চিত্রও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এতে মুহিত দেখান যে অর্থনীতির সব সূচকই সন্তোষজনক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ৫৪ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। আগেরবার একই সময়ে হয়েছিল ৫৪ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। এবার জুলাই-ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার, যা আগেরবার ছিল ১ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার। জুলাই-অক্টোবরে প্রবাসী-আয় এসেছে ৫০০ কোটি ডলার, আগেরবার একই সময়ে তা ছিল ৪৫০ কোটি ডলার।
এক প্রশ্নের জবাবে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জনকে সন্দেহের চোখে দেখছেন (হাইলি ডাউটফুল) অর্থমন্ত্রী।
পরিসংখ্যান ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য—কোথাও ব্যাংক খাত নিয়ে কিছু বলা হয়নি। বিষয়টি কি চেপে যাওয়া হলো (ব্ল্যাকআউট)—এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত কিছুটা হেসে বলেন, ‘ব্যাংক খাত তো ভালো করছে।’
হল-মার্ক, বেসিক ব্যাংকের মতো কেলেঙ্কারির পরও কি বলা যায় ভালো করছে—এমন পাল্টা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এগুলো হয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যাংক খাত ভালোই আছে।’
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ঋণের মান খারাপ হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর কিছু বেড়েছে হল-মার্ক ও বেসিক ব্যাংক দুর্ঘটনার কারণে। ব্যাংক খাত এখনো এই দুই বড় দুর্ঘটনার প্রভাব থেকে কাটিয়ে উঠতে পারেনি।’