সৌর প্যানেল পরীক্ষা এখন দেশেই সম্ভব

সৌর প্যানেলের পরীক্ষা এখন দেশেই করা সম্ভব। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা দিপাল বড়ূয়া দেশেই সৌর প্যানেলের পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি চালু করেছেন। এই প্রসঙ্গে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তাঁর সাক্ষাৎকারটি আগ্রহী পাঠকের জ্ঞাতার্থে উদ্ধৃত করা হলো।

প্রশ্ন :সৌরবিদ্যুৎ এখন আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই, আমরা জানি। গত দেড় যুগে এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। সম্প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ৩০ লাখ গৃহস্থালি সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন উদযাপন উপলক্ষে ঘোষণা করেছেন, আগামী তিন বছরে আরও ৩০ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ পাবে। বিশ্বের সফলতম সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতিও পেয়েছে। আপনি নিজেও সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে ভূমিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানজনক নানা পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আপনার কাছে প্রথমেই জানতে চাইব, ঠিক কীভাবে এর সূচনা ঘটেছিল?

দীপাল বড়ূয়া :ধন্যবাদ। আপনি জানেন, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার আগে আমি গ্রামীণ শক্তির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলাম। সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম ১৯৯৬ সালে। তখন আমাদের দেশে মাত্র ১৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পেত। এটা একেবারেই নতুন প্রযুক্তি ছিল তখন। এমনকি এটা সম্পর্কে জানাশোনা প্রকৌশলীও পাওয়া যেত না। ফলে আমরা ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে কাজটি শুরু করি। এর সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তো জানতই না, শিক্ষিত লোকজনও বিশ্বাস করতে চাইত না_ সূর্যের আলো থেকে আসলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সব শোনার পর প্রশ্ন করত, আসলেই কি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে? ফলে চ্যালেঞ্জ ছিল গ্রামের অবহেলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ গ্রহণে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। আমরা প্রথমে হোম সোলার সিস্টেম সম্পর্কে গ্রামে গ্রামে হেঁটে মানুষকে বোঝানোর কাজ করেছি। আমার মনে আছে, ময়মনসিংহের ভালুকায় বসানো একটি সোলার সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য আমি প্রায় প্রতিদিন বিকেলে ঢাকা থেকে সেখানে যেতাম। কিন্তু সোলার প্যানেল এত ব্যয়বহুল ছিল যে, যদিও বা বুঝত, কেনার আগ্রহ করত না। প্রথমদিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ধলাপাড়ায় একজন মেম্বারের বাড়িতে আমরা সোলার সিস্টেম বসিয়ে দিই। রাতে এর আলো দেখতে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিল। পরে আমরা প্রতিটি পরিবারের মাসিক কেরোসিন তেল হিসাব করে কী পরিমাণ খরচ আসে তার ভিত্তিতে কিস্তি নির্ধারণ করে সোলার প্যানেল ব্যবহারে কিছুটা উৎসাহ তৈরি করি। এতে দেখা যায়, প্যানেল বাবদ অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হয়। তাই আমরা চিন্তা করলাম, সোলার প্যানেল ব্যাটারিসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের দাম কমিয়ে কীভাবে নাগালের মধ্যে আনা যায়। আমরা যাদের কাছ থেকে সোলার প্যানেল আমদানি করতাম তাদের অনুরোধ করে কিছুটা দাম কমাতে সক্ষম হই। তারপর দেশের মধ্যে কীভাবে সোলার প্যানেলের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির দাম কমিয়ে উৎপাদন করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এতে আমরা মাসিক কিস্তিতে গ্রামে হোম সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সফলকাম হই। কেরোসিনের দামে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহারে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে আমরা উদ্বুদ্ধ করেছি। সোলার প্যানেল, চার্জ কন্ট্রোলার, কনভার্টর, ব্যাটারি, বাতি_ এসব জিনিসের দাম কমিয়ে কেরোসিনের দাম অনুযায়ী কিস্তি নির্ধারণ করার কারণে প্যানেল বসানোর কার্যক্রম এখন অনেক অগ্রসর হয়েছে।

প্রশ্ন : সৌরশক্তি সংক্রান্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডকোল তো আরও পরে যুক্ত হয়?

দীপাল বড়ূয়া :হ্যাঁ, ২০০৩ সালে। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্ভাবনা দেখে বিশ্বব্যাংক এতে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠান লাগবে। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইডকোল’ বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, যাদের আসলে অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথা ছিল, তারা তখন এগিয়ে আসে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থের জোগান দিয়ে থাকে। এখন ইডকোলের সঙ্গে ৪৭টি সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানি কাজ করছে। আমি ২০০৯ সালে ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর এটি ইডকোলের ৩০ নম্বর পার্টনার কোম্পানি হিসেবে যোগ দেয়। এখন আমাদের অবস্থান একেবারে প্রথমদিকে।

প্রশ্ন :গৃহস্থালি বা সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ কত পরিবারকে আনা সম্ভব?

দীপাল বড়ূয়া :৭-৮ মিলিয়ন পরিবারকে আনা সম্ভব কেবল নয়; তাদের জন্য এটাই প্রচলিত বিদ্যুতের বিকল্প। পার্বত্য চট্টগ্রাম, চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকায় এমন কিছু জনবসতি আছে, সেখানে ন্যাশনাল গ্রিড পেঁৗছানো অসম্ভব। সেখানে সৌরবিদ্যুৎই একমাত্র উপায়।

প্রশ্ন :সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রথমদিকে ব্যাপক মাত্রায় আমদানিনির্ভর ছিল। এখন কী পরিস্থিতি?

দীপাল বড়ূয়া :এখন অনেক কমে এসেছে। আপনাকে যদি ভাগ ভাগ করে বলি_ এখন ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যাটারি দেশেই উৎপাদিত হয়। ছয়টি প্যানেল তৈরির কারখানা রয়েছে দেশে। সেখানে ২০-২৫ শতাংশ প্যানেল তৈরি হয়। এটা ক্রমে ষাট শতাংশে উন্নীত হবে। কেবল বা তারের ক্ষেত্রে আমরা এখন শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনো আমদানি করতে হয় না।

প্রশ্ন :সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশের মান নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে…

দীপাল বড়ূয়া :দেখুন, ইডকোলের সহযোগী কোম্পানিগুলোর উপকরণের ক্ষেত্রে আপনি এই অভিযোগ পাবেন না। এ ছাড়া তিন বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে ব্যাটারির ক্ষেত্রে। আমরা যেসব সোলার প্যানেল দিই, সেগুলোর জন্য রয়েছে ২০ বছরের ওয়ারেন্টি। মুশকিল হচ্ছে, সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানির ক্ষেত্রে কোনো রেগুলেশন নেই। ফলে যে কেউ এলসি খুলে আমদানি করতে পারে। আর চীনের মতো দেশ থেকে আপনি যত কম খরচে যেভাবে চান প্যানেল তৈরি করে নিয়ে আমদানি করতে পারবেন। গ্রামাঞ্চলে এমন অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেছে, যেগুলোর সরবরাহ করা উপকরণের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু এগুলো নজরদারির কোনো ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। এ জন্য সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। যাতে নিম্নমানের উপকরণ আমদানি না হতে পারে। এটা কেবল গ্রাহকের জন্যই ক্ষতিকর নয়, গোটা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থারও ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে।

প্রশ্ন :সোলার হোম সিস্টেমে আপনাদের সাফল্য এখন প্রমাণিত। পাহাড়ি বা নদী-চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত যেসব এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেঁৗছানো অসম্ভবই বলা চলে, সেখানে আপনারা সৌরবিদ্যুতায়ন ঘটিয়েছেন। কিন্তু গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের সামান্য অংশই প্রয়োজন হয়। প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে এর বাইরের ক্ষেত্রগুলোতেও সম্প্রসারণ জরুরি। সেই ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ কতটা সম্ভাবনাময়?

দীপাল বড়ূয়া :আমরা কিন্তু ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুতের অন্যান্য ব্যবহারও পরীক্ষামূলকভাবে চালাচ্ছি। বিশেষ করে আপনাকে সেচ পাম্পের কথা বলতে পারি। সোলার হোম সিস্টেমের পর বড় সাফল্যের ক্ষেত্র হতে পারে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে ইডকোল ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিলে দুই থেকে আড়াইশ’ সেচ পাম্প ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো ঠিক সাধারণ পাম্পের মতো নয়। পানি উত্তোলনের জন্য মোটর তো চলেই; পানি জমিতে পেঁৗছানোর জন্য চারপাশে ঢাকা ড্রেন থাকে। এতে উত্তোলিত পানির অপচয় বা বাষ্পীভবন হয় না। আবার রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য একটি ছোট্ট ঘর তৈরি করা হয়। একটি পাম্প দিয়ে ৭০ থেকে ১০০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব। এ জন্য কমবেশি ১৮ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল প্রয়োজন। ওই পাম্প দিয়ে ১১-১২ লাখ লিটার পানি উত্তোলন সম্ভব। এতে খরচ পড়ে ৩৫ লাখ টাকার মতো।

প্রশ্ন :এই খরচ তো বিপুল! সাধারণ কৃষকের পক্ষে কি তা বহন করা সম্ভব?

দীপাল বড়ূয়া :অপেক্ষাকৃত কম খরচের প্যাকেজও আছে। এ ছাড়া আপনি একবারে টাকার অঙ্কটা হিসাব করছেন বলে বেশি মনে হচ্ছে। আসলে ডাউন পেমেন্ট দিয়ে পরের ৯-১০ বছরে কিস্তিতে এই খরচ শোধ হবে। বড় কথা হচ্ছে, এই খরচ আসলে ডিজেলে যে খরচ হয়, তার চেয়ে বেশি নয়। আমরা হিসাব করেই মূল্য নির্ধারণ করেছি। পাম্পের খরচ শোধ হয়ে গেলে পরে পানির দাম অনেক কমে যাবে। এছাড়া জমিতে কয়টি ফসল হচ্ছে, তার ওপরও এটা নির্ভর করবে। তিন ফসলি জমি হলে ৪-৫ বছরেই দাম শোধ হয়ে যাবে। ডিজেলচালিত সেচের খরচ যেখানে বছর বছর বাড়বে, সেখানে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচের খরচ ক্রমেই কমে আসবে। সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হলে ডিজেল আমদানির বিপুল খরচ থেকে বেঁচে যাবে দেশ। এর পরিবেশগত সুবিধাও দেখতে হবে।

প্রশ্ন :এর বাইরের আর কোন কোন ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছেন আপনারা?

দীপাল বড়ূয়া :প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরা ‘মিনি গ্রিড’ চালু করতে চাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সন্দ্বীপে একটি ১০০ কিলোওয়াটের মিনি গ্রিড বসানো হয়েছে। আরও ৪-৫টি বাজারে পরীক্ষামূলক চলছে। এই ব্যবস্থার মধ্যে সাধারণ হাট-বাজারগুলোতে একটি বড় জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসিয়ে সেখান থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বণ্টন করা হবে। এতে খরচ কম পড়বে, আবার ঘরে ঘরে ব্যাটারি ব্যবহারেরও প্রয়োজন হবে না।

প্রশ্ন :আপনারা ‘মিনি গ্রিড’ চালু করতে চাইছেন। জাতীয় গ্রিডে কি সৌরবিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব?

দীপাল বড়ূয়া :সম্ভব। এ জন্য নীতিগত ও কারিগরি প্রস্তুতি লাগবে। জার্মানি, ভারতে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, জাতীয় গ্রিড স্থিতিশীল নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের গ্রিডে নানা জটিলতা রয়েছে। লোডশেডিং থাকে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হলে জাতীয় গ্রিডকে লোডশেডিংমুক্ত হতে হবে। জাতীয় গ্রিডে দিলে আরেকটি সুবিধা হচ্ছে যে, ব্যাটারি প্রয়োজন হয় না। তাহলে ব্যাটারির খরচও বেঁচে যায়। বিশেষ করে রুফটফ সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল যদি চালু করা যায়, তাহলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব। জার্মানিতে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আমার অফিস ভবনের ছাদে পরীক্ষামূলক একটি তিন কিলোওয়াটের প্যানেল বসিয়েছি। সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে। জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এটা আমার ছোট্ট একটি উপহার বলতে পারেন। এখন প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে খরচ হয়, সেটা ব্যয় করে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। অনেকেই আগ্রহী হবেন। বাড়িতে ব্যবহার করেও তারা জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে পারবেন। আমরা গ্রামাঞ্চলেও বাড়িতে লাইট, ফ্যান, টিভি, মোবাইল চার্জ ছাড়াও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। যেমন পানি উত্তোলন করে ট্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার বা গোসলের জন্য রানিং ওয়াটার ব্যবহার। বড় প্যানেল ব্যবহার করে ফ্রিজ বা হিটার ব্যবহারও সম্ভব।

প্রশ্ন :তার মানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে গ্রামাঞ্চলেও নাগরিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব?

দীপাল বড়ূয়া :ঠিক তাই। সৌরশক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিপ্লব সম্ভব। প্রয়োজন কেবল নীতিগত প্রস্তুতি।

প্রশ্ন :বর্তমান সরকার তো সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছে। নীতিগত আর কী কী প্রস্তুতি লাগবে?

দীপাল বড়ূয়া: ইডকোলের কথা তো আগেই বলেছি। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বৈদেশিক অর্থায়ন ও অনুদান প্রাপ্তি সহজ হয়েছে। সরকার সম্প্রতি এসআরইডিএ বা সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করেছে। এগুলোর কার্যকারিতা ও কর্মপরিধি আরও বাড়ানো দরকার। এখন দরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন। ভারতে আলাদা মন্ত্রণালয় আছে। তারা এটাকে বলে মিনিস্ট্রি অব নিউ অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি। আমরাও আলাদা মন্ত্রণালয় করতে পারলে অনেক কাজ সহজ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন :প্রথমে যে অনুষ্ঠানের কথা বললাম, সেখানেই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ থাকবে সৌরবিদ্যুৎ। এটা কি কারিগরিভাবে সম্ভব? নাকি কেবলই আশাবাদ?

দীপাল বড়ূয়া :অবশ্যই সম্ভব। তিনি বরং অনেকটা রক্ষণশীলভাবে বলেছেন। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে আরও বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে আমি মনে করি। এখন আরও ৩০ লাখ পরিবারে সৌরবিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে গৃহস্থালি ও সেচ কাজেও প্রচলিত বিদ্যুৎ থেকে অনেকে সৌরবিদ্যুতে চলে আসবেন। কারণ এটা সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও টেকসই।

প্রশ্ন :আমরা আশা করি, নতুন এই খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের মনোযোগ আরও বাড়বে। আসলে পরিবর্তিত জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবেলায়, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে; দূষণমুক্ত পরিবেশ ও প্রতিবেশ টেকসই করতে হলে এর বিকল্প নেই। আশা করি, সময়ের প্রয়োজনেই আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এই খাত। এত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

দীপাল বড়ূয়া :আপনারা সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ ধরে রেখেছেন। এ জন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ।

সূত্র: সমকাল