৫ লাখ দুঃস্থ মা অর্থ সহায়তা পাবেন : একনেকে ৪৪৯০ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

৫ লাখ দুঃস্থ মা অর্থ সহায়তা পাবেন

দেশের ৫ লাখ দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী সন্তানের মা, যারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল তাদেরও অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।  প্রকল্পের মাধ্যমে একজন দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ৪ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল একনেক সভায় মোট ৪৪৯০ কোটি টাকার ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৬৩৬ কোটি, প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ৮৪৭ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ৬টি নতুন ও ২টি সংশোধিত।

বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, “ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি)” শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ৩৮ কোটি টাকা ও বিশ্ব ব্যাংক অবশিষ্ট ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা ঋণ দেবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১৫’র এপ্রিল থেকে ২০২০’র জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করবে। রংপুর ও ঢাকা বিভাগের ৭টি জেলার ৪২টি উপজেলার ৪৪৩টি ইউনিয়নের ১৬ লাখ পরিবার থেকে ৫ লাখ দুঃস্থ মহিলা বাছাই করে এ সহায়তা দেয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের গর্ভকালীন মোট ৪ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে। প্রতিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২শ’ টাকা করে দেয়া হবে। এদিকে শূন্য থেকে ২৪ মাস বয়সী দরিদ্র শিশুদের প্রতি মাসে একবার শরীর বৃদ্ধির পরীক্ষা করে নগদ ৫শ’ এবং ২৫ থেকে ৬০ মাস বয়সী শিশুদের তিন মাসে একবার শরীর বৃদ্ধির পরীক্ষা করে নগদ ১ হাজার টাকা দেয়া হবে। এছাড়াও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও মায়েরা প্রতিমাসে শিশু পুষ্টি ও উন্নত শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করলে প্রতিবার ৫শ’ টাকা করে পাবেন।

সভায় সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরের ৮ উপজেলায় গ্যাস সঞ্চালন লাইন স্থাপনে ৯৭৯ কোটি টাকায় ধনুয়া-এলেঙ্গা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম তীর-নলকা গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৬৫ কোটি, জাপানি উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ৫০৭ কোটি ও অবশিষ্ট ৭ কোটি সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৬৬ কি.মি. দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মিত হবে। এর ফলে বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন বিদ্যুেকন্দ্র, সার কারখানা ও অন্যান্য শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে একনেক সভায় জানানো হয়। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ২০১৪’র জুলাই থেকে ২০১৯’র জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।