দ্বিগুণ দাম পেয়ে ‘পোয়া বারো’ ঘিওরের সবজি চাষিদের

 রাম প্রসাদ সরকার দীপু, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
দেশে চলমান লাগাতার অবরোধে বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি ঢাকায় কম আসায় রাজধানীতে সবজির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই সুযোগে ঢাকার সনি্নকটে হওয়ায় মানিকগঞ্জের সবজি চাষি ও ব্যবসায়ীরা ছোট খাটো যানবাহনেই সবজি পাঠাতে পারছেন কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে। পক্ষান্তরে দেশের উত্তর বঙ্গ, বৃহত্তর ময়মনসিং, নরসিংদী ও বিভিন্ন জেলা থেকে যে সবজি রাজধানীতে আসতো অবরোধের কারণে তা অনেকটা কমে গেছে। তারই প্রভাব পরেছে ঢাকার সবজি বাজারে। 

চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে বাম্পার ফলন হয়েছে ফুলকপি, শীম, বাধা কপি, টমেটো, বেগুনসহ অন্যান্য সবজি। ফলন ভালো হলেও হাসি ছিল না কৃষকের মুখে। ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করতে রীতিমতো বিপাকেই পরেছিল কৃষক। কিন্তু অপরোধের কারণে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। যেখানে ১৫-২০ দিন অগেও এক হালি ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। যা উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা বাজারে বহন করে আনার খরচও উঠছিল না। এমনি দৃশ্য দেখা গেছে জেলার বিভিন্ন হাট- বাজারে। বর্তমানে একেকটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৮ থেকে ১৫ টাকয়। শীম, গাজর, টমেটো, বেগুনেরও দাম বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মৌসুমের শেষের দিকে ফের হাসি ফুটেছে সবজি চাষিদের।

গত বুধবার সরেজমিনে জেলার বৃহত্তর সাপ্তাহিক হাট ঘিওর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিক্রির জন্য প্রচুর পরিমাণ ফুলকপি নিয়ে বসে আছে কৃষকেরা। আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি মাঝারি আকারের ৩টি ফুলকপি ক্রয় করেছে ২৫ টাকা দিয়ে। ফুলকপি বিক্রেতা রাধাকান্তপুর গ্রামের মোঃ মুন্নাফ মিয়া জানান, ১০০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে এক ঝুড়ি ফুল কপি নিয়ে আসছি। বিক্রি হচ্ছে বেশ ভালো দামেই। অপর সবজি বিক্রেতা মো. রশিদ মিয়া জানান, ফুলকপি বিক্রিতে প্রথমদিকে বেশি দামে কিনে আরো চড়া দামে বিক্রি করতে পেরেছি। তাতে লাভ ভালো পেয়েছি। মাঝে সস্তা পেয়ে বিক্রিতেও ধস ছিল। এখন একটু লাভবান হচ্ছি।

ঘিওর কৃষি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা রেজোয়ানা রহমান জানান, মৌসুমের প্রথম দিকে যারা ভালো ফলন করতে পেরেছে তারা বেশ চাহিদা ও উচ্চ মূল্য পেয়ে আর্থিক লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে আবার দাম বাড়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছি। 

জেলার ৭টি উপজেলাতেই বিগত কয়েক বছরে ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন শাকসবজির বাম্পার ফলন হয়। এতে লাভজনক ফসল হিসেবে অনেক কৃষকই অতি উৎসাহী হয়ে আবাদ করেন। যার কারণে এ বছর চাহিদার তুলনায় ফলন অনেক বেশি হয়েছে বলে জানা যায়। তারই প্রভাব পরেছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। এ ছারা ঢাকার কারওয়ান বাজারে ও আশুলিয়ার বাইপাইল পাইকারী সবজি আরতের এক তৃতীয়াংশ ফুলকপি যায় মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। ঢাকার বাজারেও অন্য বছরের চাইতে এ বছর চাহিদার তুলনায় মানিকগঞ্জ থেকে সবজি যাওয়ায় সঠিক মূল্য পাচ্ছে চাষিরা।