পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান : অপহৃত শিশু ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

কোটচাঁদপুর থেকে ৫ বছরের শিশু অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলার বলরামনগর গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে ব্র্যাকের প্রি-প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র সাব্বির হোসেন গত বুধবার দুপুরে বাড়ির কাছে খেলার সময় অপহরণের শিকার হয়। পরিবারের লোকজন আশপাশে খুঁজে তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়।
এদিকে, বিকেল ৫টার দিকে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে সাব্বিরের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সাব্বিরের পরিবার ঘটনাটি কোটচাঁদপুর থানা পুলিশে জানালে পুলিশ অভিযান শুরু করে।
সাব্বিরের বাবা অপহরণকারীদের দাবির টাকা দিতে রাজি হয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। অপহরণকারীরা সাব্বিরকে নেয়ার জন্য তার বাবাকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে সন্ধ্যায় আসতে বলে। রাত ৮টার দিকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সাব্বিরের বাবাকে অনুসরণ করের জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে হাজির হয়। অপহরণকারীরা সাব্বিরের বাবাকে জানায়, রাত হয়ে গেছে তাই তাদের একই উপজেলার হাসাদাহ বাজারে আসতে হবে। হাসাদাহ বাজারে এসে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ বিকাশ করতে বলে। তখন সাব্বিরের বাবার কাছে মাত্র ৮ হাজার টাকা আছে বলে জানালে বাকি টাকা পরে দেয়া হবে শর্তে তারা সাব্বিরকে ছেড়ে দেবে এই শর্তে ৮ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলে। তাদের কথামতো টাকা পাঠানোর পর তারা ফোন বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দরিয়াপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে ফোর্স নিয়ে রাতভর অভিযান চালিয়ে মজলিশপুর গ্রামের বিল্লালের বাড়ি থেকে সাব্বিরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী বিল্লাল পালিয়ে যায়।
সাব্বির পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানায়, তাদের পূর্বপরিচিত বিল্লাল তাকে চা-বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাজারে যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।