৪২ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান হচ্ছে

বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য সুখবর আসছে। তাদের চাকরির সুযোগ বাড়ছে। তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য নেওয়া ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে ১৭ জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এর আওতায় ৪২ হাজার ৫০০ বেকার তরুণ-তরুণী দিনে দুইশ’ টাকা ভাতায় দুই বছর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৬৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আগামী ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সম্প্রসারিত আকারে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি শুরু হবে।
২০১০ সালের ৬ মার্চ কুড়িগ্রাম থেকে এ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম পর্যায়ে ৮৪৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জের ১৯টি উপজেলায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন হয়। এই তিন জেলার ৫৬ হাজার ৮০১ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ৫৬ হাজার ৫৪ প্রশিক্ষণার্থী দুই বছরের অস্থায়ী কর্মসংস্থান পান।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রংপুরের কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, নীলফামারীর ডিমলা, দিনাজপুরের খানসামা, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার ১৪ হাজার ৪৬৭ জন অস্থায়ী চাকরি পেয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি উপজেলায় চাকরি পেয়েছেন গড়ে এক হাজার ৮০৮ জন প্রশিক্ষণার্থী। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তাদের কাজের মেয়াদ শেষ হবে। এ খাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে ১৭০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ এই আট উপজেলায় মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এখন কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ১৭ জেলার ১৭টি উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দারিদ্র্যক্রমের ভিত্তিতে জেলা-উপজেলার পর্যায়ক্রমিক অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণ করা হবে। উপজেলাগুলো হচ্ছে_ বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহের নান্দাইল, পিরোজপুরের কাউখালী, চাঁদপুরের হাইমচর, শেরপুর সদর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাগুরার মহম্মদপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ,
বাগেরহাটের চিতলমারী, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বান্দরবানের থানচি, নাটোরের সিংড়া, খুলনার তেরখাদা ও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ। প্রতি উপজেলায় গড়ে দুই হাজার ৫০০ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।
এবার অবশ্য ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির কয়েকটি শর্ত সংশোধন করা হচ্ছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এইচএসসি উত্তীর্ণ নূ্যনতম ২৪ বছর বয়সী ৪২ হাজার ৫০০ তরুণ-তরুণী কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রথমে তাদের তিন মাসের প্রশিক্ষণ এবং পরে তাদের উপজেলা পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন অফিসে কাজ দেওয়া হবে। অর্থাৎ কর্মসূচির আওতায় প্রতি উপজেলা থেকে আড়াই হাজার তরুণ-তরুণীর কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর আগে এ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এসএসসি উত্তীর্ণ বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রতিদিন একশ’ টাকা ভাতাসহ তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং পরে একেকজনকে প্রতিদিন দুইশ’ টাকা ভাতাসহ দুই বছরের অস্থায়ী কাজে নিয়োগ করা হতো।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করে ১৭ জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে এটি চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি উপজেলায় আড়াই হাজার করে উপকারভোগী হিসেবে ১৭টি উপজেলায় ৪২ হাজার ৫০০ জনের জন্য ১২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতি উপজেলার উপকারভোগীর জন্য ৩৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে মাথাপিছু ব্যয় হবে এক লাখ ৫৫ হাজার ৫৬০ টাকা। এই খাতে পরবর্তী দুই বছর, অর্থাৎ ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ এবং ২৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে।