বিদ্যুৎ খাতে জার্মানির ঋণ ও অনুদান

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে সবসময়ই এক ধরনের শঙ্কা বিরাজমান। কেননা বলাই বাহুল্য যে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনে। এটা মনে রাখা সঙ্গত, দেশের বেশির ভাগ মানুষই অভাব অনটনকে সঙ্গি করে জীবনযাপন করে। ফলে যখন বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভালো কোনো খবর পাওয়া যায় তখন তা আশাপ্রদ। সম্প্রতি যখন জানা যাচ্ছে যে, পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ৬০ মিলিয়ন ইউরো দেবে জার্মানি। তখন এই খবরকে আমরা ইতিবাচক উল্লেখ করে বলতে চাই, এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে তা বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কার্যকর প্রভাব বিস্তার করবে। সবচেয়ে সুখকর হলো, এ লক্ষ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। আর এই চুক্তির আওতায় ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব পাওয়ার ট্রান্সমিশন ইন দ্য ওয়েস্টার্ন জোন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নকল্পে কেএফডবিস্নউ বাংলাদেশ সরকারকে যে ৬০ মিলিয়ন ইউরো আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, তার মধ্যে ৪৫ মিলিয়ন ইউরো নমনীয় শর্তে ঋণ এবং ১৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সহায়তা।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ২৩০ কেভি ও ১৩২ কেভি সঞ্চালনব্যবস্থা এবং সাব-স্টেশনের উন্নয়নের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও অধিকতর কার্যকরভাবে ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের পরিসর বৃদ্ধি ও সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা। ফলে এই প্রকল্প যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে নজর দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে পিজিসিবি এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রসারের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে অবদান রাখবে বলে জানা যাচ্ছে_ তখন বিষয়টিকে আমলে নিয়ে সরকার সুনজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। কেননা বিভিন্ন প্রকল্পই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে থমকে গেছে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও যথা সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ আছে।
আমরা বলতে চাই, দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য জার্মানি বিদ্যুৎ খাতে সহায়তা দিচ্ছে নিঃসন্দেহেই এটি একটি ভালো দিক। কেননা তাতে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ এর সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা উন্নত করতে এই ঋণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে এটার সুফল ভোগ করতে হলে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। আর এই ঋণের পরিপ্রেক্ষিতে বিশিষ্টজনরাও বলেছেন, ঋণের মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের সিস্টেম লসও কমে আসবে। ফলে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যদি সিস্টেম লস কমে আসে তাহলে তার প্রভাবে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতেরই উন্নয়ন আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।
আমরা উল্লেখ করতে চাই, সরকার আবারো গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ এই দাম বৃদ্ধি জনজীবনের জন্য দুঃখজনক। আমরা চাই, সরকার ঋণসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থাকে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করুক। যাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এমন উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, যেখানে বছর বছর মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে না। এটা মনে রাখতে হবে যে, বিদ্যুৎ খাত দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত।
সার্বিকভাবে আমরা সরকারকে বলতে চাই, বিদ্যুৎ নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। আর এই খাতের উন্নয়নের আরো বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। যে বিষয়গুলোর দাম বৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে সেগুলোর দাম বৃদ্ধি করে ভর্তুকি কমাতে চাওয়া যেমন প্রত্যাশিত নয়, তেমনিভাবে এর প্রভাবে জনজীবনের ভোগান্তিও কাম্য হতে পারে না। আমরা প্রত্যাশা করি, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছপা হবে না।