নভেম্বর মাসে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে

অক্টোবরে রেমিট্যান্স কমে গেলেও নভেম্বর মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে। অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা ১১৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে ১৫ কোটি ডলার বেশি। এ নিয়ে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) প্রবাসীদের পাঠানো মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ এন্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজি ছাইদুর রহমান বলেন, ঈদ ও দুর্গাপূজার ছুটির কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কম এসেছিল। নভেম্বর মাসে ফের আগের ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে। অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, প্রতিবছরই সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে একটু ধীরগতি থাকে। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে তা আবার বাড়ে। এবারো তাই হবে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
অক্টোবর মাসে ১০১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা : চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৪৯ কোটি ১৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল এক মাসের হিসাবে এ সময়ের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।
পরের মাস আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে ১৩২ কোটি ডলার। অক্টোবর মাসে ১০১ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স কমার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ছাইদুর রহমান বলেন, রোজা ও কুরবানির ঈদের কারণে জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। ঈদের পরের মাসে সব সময়ই কম রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা।
রিজার্ভ ২১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার : গত মঙ্গলবার দিন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। ৭ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।
পরে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। পরে তা ফের বেড়ে ২২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।
দুমাস পর পর আকুর বিল পরিশোধ করা হয়। ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে তা ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ৩০ জুন রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।