সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন করে আরও ১১১ কোটি ডলার বা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরে সহায়তার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি প্রস্তাবিত এ ঋণ তারই অংশ। ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ঋণপ্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ওই সভায় তোলা হবে। এতে অনুমোদনের পর এরপর অর্থ ছাড় করা হবে। অর্থছাড়ের বিষয়ে শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের চুক্তি সই হবে। প্রতিশ্রুত এ ঋণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচির বাইরে বড় অঙ্কের এ অর্থ প্রদান করা হবে।
চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২শ’ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বহুজাতিক ঋণদানকারী সংস্থাটি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অবশিষ্ট ঋণ পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন বছরের প্রথম মাসে আলোচনা শুরু হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ঋণের পুরো সহায়তা পাওয়া যাবে। এদিকে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে অক্টোবরে বিদেশি সহায়তা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমে গেছে। ইআরডির কর্মকর্তারা বলেন, কিছু প্রকল্পে অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। ফলে ডিসেম্বরে সহায়তার পরিমাণ বাড়বে।
ইআরডি সূত্র জানায়, ১১১ কোটি ডলারের মধ্যে ৪০ কোটি প্রাথমিক শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচনে ৩০ কোটি, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পে ৬ কোটি ও উপকূলীয় অঞ্চলে সাইক্লোন শেল্টার প্রকল্পে ৩৫ কোটি ডলার ঋণপ্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রকল্পে অর্থছাড়ের বিষয়ে চুক্তি সই হবে জানুয়ারিতে। বাকি দুটির জন্য মার্চে চুক্তি সই হতে পারে। সহজ ও নমনীয় শর্তে এ ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের সুদহার হবে দশমিক ৭৫ শতাংশ। গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩২ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৯ জেলায় সাইক্লোন শেল্টার গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে নতুন ৪৫০টি। মেরামত করা হবে ৫০০টি। প্রতিটি নতুন সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ কোটি ডলার। এ ছাড়া দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকায় গরিব জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৬টি উপজেলার অতিদরিদ্রদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হবে।
অন্যদিকে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ভ্যাট অফিসগুলোকে অটোমেশন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তখন আয়কর রিটার্নের মতো অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এটি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্য দিয়ে রাজস্ব প্রশাসনে যুগান্তকারী সংস্কার করা হবে। এতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের হয়রানি কমবে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের টিফিন প্রদান ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক।