‘এশিয়ার দেশে রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ ’

‘এশিয়ার দেশে  রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ ’বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর রফতানি নির্ভরতা কমিয়ে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক দিতে হয়। অথচ চীন, জাপান, কোরিয়ায় তৈরি পোশাকসহ অধিকাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। আমরা এসব বাজারে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘পূর্বমূখী অর্থনীতি : বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এশীয় অর্থনীতির সমন্বয়’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অরগানাইজেশন (জেট্রো) সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ, জেট্রোর আবাসিক প্রতিনিধি কী কাওয়ানো বক্তব্য রাখেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের আমদানি পণ্যের বড় অংশ আসে চীন ও ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলো থেকে। অথচ এসব দেশে রফতানির পরিমাণ কম। এসব দেশে রফতানি বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়রে নানা সাফল্যের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, গোল্ডম্যান স্যাকস্, জেপি মরগানসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ আমাদের সাফল্যর ভূয়সী প্রশংসা করছে। তারা বাংলাদেশকে আগামী দিনের উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের কোন কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসব সাফল্যের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জাপানী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে বলেন, ‘জাপানের ব্যবসায়ীরা হরতাল-অবরোধকে ভয় পায়। তবে আমি তাদের বলব, আপনারা ভয় পাবেন না। বাংলাদেশের জনগণ হরতাল-অবরোধকে এখন প্রত্যাখান করেছে।’
তিনি বলেন, আইন করে হরতালকে বন্ধ করা হবে না। তবে আমরা অর্থনীতিকে এমনভাবে বেগবান করবো, যাতে অর্থনীতির শক্তির কারণে স্বাভাবিকভাবে এটি বন্ধ হয়ে যাবে। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে এই আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা বলেন, জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। অথচ এর মধ্যে বাংলাদেশী পণ্যের পরিমাণ মাত্র ২ শতাংশ। এর পরিমাণ বাড়াতে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ বলেন, চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে রফতানি বাণিজ্য বাড়াতে প্রত্যেকটি দেশের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে। তিনি এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক সুবিধাদি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।