জাতিসংঘ ‘টেকনোলজি ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার শীর্ষ প্যানেলে বাংলাদেশী

স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে দারিদ্র্য সীমা থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্যে প্রস্তাবিত ‘টেকনোলজি ব্যাংক’র কার্যকারিতা ও সুযোগ-সুবিধাসমূহ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এই ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশাসনিক পদ্ধতি কী ধরনের হওয়া উচিত সে জন্য বিস্তারিত সুপারিশমালা তৈরীর জন্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের শীর্ষ প্যানেলে বাংলাদেশী ড. ফেরদৌসী কাদরীও রয়েছেন। ড. কাদরী ২৫ বছর যাবত রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ‘আইসিডিডিআর’র পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে বিশেষ অবদানের জন্যে গত বছর ‘দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সস’ কর্তৃক ‘সিএনআর রাও’ এওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন।
উত্তর এবং দক্ষিণের উন্নয়ন অংশিদার দেশসমূহের ৫ মহিলা এবং ৫ পুরুষের সমন্বয়ে ১০ সদস্যবিশিষ্ট এ প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন সুদানের মোহাম্মদ হাসান, যুক্তরাষ্ট্রের ব্র“স লেহম্যান, সাউথ আফ্রিকার টেবেলো নিকং, ডেনমার্কের ডর্টে ওলেসেন, নেপালের পোশ রাজ পান্ডে, হাইতির মিশেল ডুভিভিয়ের পিয়েরে-লুইস, চীনের ফ্যাঙ জিন, তুরস্কের হ্যাকান কারাতাস এবং স্ব্েপান্নত দেশ, ল্যান্ডলক ডেভেলপিং কান্ট্রিজ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জ সমূহের জন্যে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল গায়েন চন্দ্র আচার্য। এ শীর্ষ প্যানেলের চেয়ারম্যান হবেন ইটালির ট্রিয়েস্টের ‘ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্স’র নির্বাহী পরিচালক রোমেইন মুরেঞ্জি। রোমেইন মুরেঞ্জি হচ্ছেন রুয়ান্ডার নাগরিক। জাতিসংঘ মহাসচিবের একজন মুখপাত্র ২৬ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় এনআরবি নিউজকে এ তথ্য জানান।
প্রস্তাবিত ব্যাংকটির নাম হচ্ছে ‘টেকনোলজি ব্যাংক এন্ড সায়েন্স, টেকনোলজি এন্ড ইনোভেশন সাপোর্টিং মেকানিজম’। এই শীর্ষ প্যানেলের কাছে মহাসচিব বান কি-মুন আহবান জানিয়েছেন স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রসমূহের টেকসই উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তনের চলমান কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে বাস্তবতার আলোকে কী করা উচিত সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা তৈরীর জন্যে। মহাসচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে তার মুখপাত্র  আরো জানিয়েছেন যে, আসছে ফেব্র“য়ারিতে এ প্যানেল বৈঠকে মিলিত হবেন এবং ২০১৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই মহাসচিব বরাবরে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবেন ।
এ ব্যাপারে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন ২৬ নভেম্বর বুধবার রাতে এনআরবি নিউজকে বলেন, এই টেকনোলজি সেন্টার তথা ব্যাংকের সদর দফতর ঢাকায় স্থাপনের চেষ্টা করছি আমরা। ২০১১ সালে মহাসচিব বান কি-মুনের ঢাকা সফরের সময়েও বাংলাদেশ এ প্রস্তাব রেখেছে। কারণ, বিশ্বের সপ্তম বৃহ্ত্তম ভাষাভাষী মানুষের দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের বড় কোন অফিস হয়নি। রাষ্ট্রদূত মোমেন এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ করেন, আসছে ফেব্র“য়ারিতে ঢাকায় ‘জাতিসংঘ সাউথ সাউথ কো-অপারেশন’র শীর্ষ সম্মেলন হবে। সে সময় আমরা ঢাকায় টেকনোলজি সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাজও শুরু করে দেব। যাতে করে পরবর্তীতে ঐ সেন্টারকেই জাতিসংঘ টেকনোলজি ব্যাংকের  সদর দফতরে রূপান্তরিত করা যেতে পারে।