তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ ১৪৫তম

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। খুব বেশি এগিয়ে নেই প্রতিবেশী ভারত এবং পাকিস্তানও। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ডেনমার্ক।

বিশ্বের আইসিটি উন্নয়ন সূচক (আইডিআই) প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)। এতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বিশ্বের ১৬৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫তম। বাংলাদেশের প্রাপ্ত সূচক ১.৯৭। আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৬তম। সে হিসাবে একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম। এ অঞ্চলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ ১৪৫তম

এবারের র‌্যাংকিংয়ে ৮.৮৬ সূচক নিয়ে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শীর্ষদশে থাকা বাকি দেশগুলো হচ্ছে- সুইডেন, আইসল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, হংকং এবং লুক্সেমবার্গ। এশিয়ার দৃই বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশের মধ্যে এ তালিকায় ১১তম স্থানে রয়েছে জাপান এবং ৮৬তম স্থানে রয়েছে চীন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার অবস্থান ১১৬তম। ভারত রয়েছে ১২৯তম স্থানে এবং পাকিস্তান ১৪২তম স্থানে। ২০১৪ সালের এ র‌্যাংকিং তৈরি করা হয় ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী।

আইডিআই র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয় ‘মিজারিং দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (এমআইএস) রিপোর্ট ২০১৪’-তে। এতে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৬.৬ শতাংশ করে। এ হার উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ৩.৩ শতাংশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৮.৭ শতাংশ করে। বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০০৯-২০১৪ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এমনকি বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অনলাইনে আসছে। যদিও এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৪.৩ বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে না। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ বাস করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

আইটিইউর সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামাদন আই তাউরে বলেন, ‘বিশ্বের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আইসিটি খাত। বিশেষ করে এ খাতকে অবলম্বন করে নারী, পুরুষ থেকে শুরু করে অক্ষম মানুষ এগিয়ে আসার সুযোগ পাচ্ছে। তাই আইসিটিতে আমরা কতটুকু উন্নতি করেছি এটি পরিমাপ করা প্রয়োজন। যাতে এ খাতে আমরা আরো দ্রুত উন্নতি করতে পারি।’ তিনি বলেন, এ কারণেই আইটিইউ বিশ্বের ২০০ অর্থনৈতিক দেশের ১০০ সূচক পরিমাপ করে এ পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে আইসিটি এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে মোবাইল ফোনের গ্রাহকসংখ্যা হবে সাত বিলিয়ন। যা বিশ্ব জনসংখ্যার সমান। বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বের ৩ বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে। যেখানে ২০১৩ সালের শেষ নাগাদ এটি ছিল ২.৭ বিলিয়ন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে উন্নত দেশগুলোতে থ্রিজির গ্রাহকসংখ্যা টুজির গ্রাহককে অতিক্রম করে গেলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনো টুজির গ্রাহক বেশি। তবে আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরে থ্রিজির গ্রাহকসংখ্যা টুজিকে অতিক্রম করে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বের ৪৪ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেটের আওতায় আসবে। যা গত বছর ছিল ৪০ শতাংশ এবং ২০১০ সালে ছিল ৩০ শতাংশ। বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৩১ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেটের আওতায় আছে। যা স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে মাত্র ৫ শতাংশ।