কনক জাতের টমেটো চাষে লাভবান হচ্ছেন শত শত কৃষক

হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে মধ্য অগ্রায়নে যখন চারদিকে আমন ধান কাটার ধুম তখন অন্যদিকে উঁচু জমিতে চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। এই সবুজের বুক ছিড়ে মাঝে মাঝে দেখা যায় হলুদ বর্ণের ফসল, কনকজাতের টমেটা। সোনালী রঙের এই ফসল ভাগ্য গড়ে দিয়েছে শত শত কৃষকের। জেলার মাধবপুর উপজেলায় বিস্তীর্ণ এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়।
মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী, বহরা, শাহজাহানপুর, সুরমা, তেলিয়াপাড়া, ভান্ডারিয়া, এখতিয়ারপুর, জালুয়াবাদ, নোয়াপাড়া, জগদীশপুর এলাকায় উচ্চ ফলনশীল ‘কনক’ জাতের টমেটোর চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন কৃষকরা। এসব এলাকায় টমেটোর চাষ করে কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে। প্রথমে ২/১ জন কৃষক উচ্চ ফলনশীল জাতের টমেটোর চাষ স্বল্প পরিসরে শুরু করে লাভবান হওয়ায় তাদেরকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন শত শত কৃষক টমেটোর চাষ করছেন। বর্তমানে টমেটো চাষ এসব এলাকার প্রধান ফসল হিসেবে স্থান পেয়েছে।
মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলানগর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ৯০ শতক জমিতে টমেটো ও ৮০ শতক জমিতে ফুল কপি চাষ করেছেন। তার সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ৯০ শতক জমি থেকে টমেটো বিক্রয় করে এসেছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। এছাড়া ৮০ শতক জমির ফুল কপি থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা আসবে বলে রফিক জানান। তিনি অগ্রহায়ণের শুরুতে ৯০ থেকে ১শ’ টাকা কেজিতে টমেটো বিক্রি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি তার পুরো জমির টমেটো চুক্তি দরে বিক্রি করে দেন। তিনি ওই জমিতে এগ্রি কনসান লিঃ-এর ‘কনক’ জাতের টমোটো চাষ করে এ সফলতা পেয়েছেন।
ওই এলাকার সহস্রাধিক কৃষকের মধ্যে রফিক একজন সফল সবজি চাষী। রফিকসহ ওই এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে বীজতলায় টমেটোর চারা উৎপাদন করে ভাদ্র মাসে জমিতে চারা রোপন করা হয়। কার্তিক মাসের প্রথম দিকে টমেটোর গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে এবং অগ্রহায়ণের প্রথম দিকে টমেটো বাজারজাত করা শুরু হয়। ফলন ভেদে প্রতি ২০ শতক জমির টমেটো বিক্রি হয় আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা। মাধবপুরে এসব অঞ্চলে কৃষকরা মূলত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টমেটোর চাষাবাদ করে থাকে। প্রথমে যেসব কৃষক ক্ষুদ্র পরিসরে টমেটোর চাষ করতেন দিনে দিনে তারা বাণিজ্যিক পর্যায়ে টমেটোর চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে কৃষকরা হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। টমেটো চাষাবাদ করে এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক লোকসানে পড়েনি বরং তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাধবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় টমেটোর পাইকারী ক্রেতারা ক্ষেতের টমেটো চুক্তি হিসেবে কিনে পিক-আপ ভ্যান, ছোট ও বড় ট্রাকসহ বিভিন্ন বাহনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।
রফিক ছাড়াও অন্য চাষীরা জানান, টমেটো সাধারণত শীত কালীন ফসল। আগে তারা শীতকালে দেশী জাতের টমেটো চাষ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তারা গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষ করছেন। টমেটো একটি সুস্বাদু সবজি হওয়ায় এ এলাকার টমেটোর কদর রয়েছে সারা দেশে।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মাধবপুরে উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হয়। চলতি বছর মাধবপুরে টমেটোর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩২০ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে। মাধবপুরের উঁচু ভূমির মাটি আগাম জাতের টমেটো চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বাসস।