৩০ লাখ ছাড়াল বিও অ্যাকাউন্ট

চার বছর পর আবার ৩০ লাখের কোটা ছাড়িয়েছে বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কম্পানি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ৩০ লাখ ২০ হাজার ৯৭৪। এর আগে কেবল ২০১০ সালের শেষ দিকে শেয়ারবাজারের চরম বিস্ফোরণের সময় ৩০ লাখ ছাড়িয়েছিল বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা। গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২৮ লাখ ২০ হাজারে নেমে এসেছিল। এরপর থেকে নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলার হিড়িক শুরু হয়। তবে সেপ্টেম্বরের পর থেকেই মূলত বিও খোলার চাপ বেড়ে যায়। নতুন অর্থবছরের সুবিধা নেওয়া ছাড়াও ব্যাংকের পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আইপিও ছাড়ার সুযোগ নিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সিডিবিএল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার নতুন বিও অ্যাকাউন্টের আবেদন জমা পড়ছে সিডিবিএলে। ১০ নভেম্বর সিডিবিএলে বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৫টি। ১১ নভেম্বর বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ পাঁচ হাজার ৫০১টিতে এবং ১২ নভেম্বর বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ১২ হাজার ১১৪টিতে। আর গতকাল ১৫ নভেম্বর বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ২০ হাজার ৯৭৪টি।

এর মধ্যে আবাসিক বিনিয়োগকারী ২৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৫টি এবং এক লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৭ জন প্রবাসী বিনিয়োগকারী।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধস শুরু হওয়ার পর বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২৪ লাখে নেমে আসে। সেখান থেকেই আবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে পুঁজিবাজার। আর বর্তমান বাজারের হিসাবে বিও অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়াকে পুঁজিবাজারের জন্য সুখবর হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ার পেছনে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আইপিও ছাড়ার সুবিধার ভূমিকা রেখেছে। তবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতাও মানুষের শেয়ারবাজারমুখী হওয়ার একটা কারণ। দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছে। বিকল্প হিসেবে অনেকেই কিছু সময়ের জন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন।’

কবির সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলফিকার কবির বলেন, ‘নতুন অর্থবছরে এমনিতেই বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা থাকে। আর এবার বছরজুড়েই একের পর এক নতুন আইপিও এসেছে বাজারে। ব্যাংকের পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিও খোলার সুযোগ থাকায় আইপিও ছাড়াও এখন অনেক সহজ এবং দ্রুততর হয়েছে। লটারির ড্র অনুষ্ঠানের পর তিন কার্যদিবসের মধ্যেই বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাচ্ছে। মূলত এই আইপিওকে সামনে রেখেই বিও খোলা হচ্ছে বেশি। কারণ নতুন খোলা বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৯৫ শতাংশই আইপিও ছাড়ার জন্য।’

নতুন বিও খোলার জন্য ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিও খোলার জন্য ৫০০ টাকা নবায়ন ফির পাশাপাশি ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ হিসেবে গ্রহণ করত। তবে আইপিও ছাড়ার নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অনেক হাউস সার্ভিস চার্জ মওকুফ করেছে। বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ার এটাও একটা কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।