যশোরে বিশেষ অভিযানে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ : স্বস্তিতে শহরবাসী

যশোর প্রতিনিধি : জেলার মহাসড়কে চলাচলকারী অবৈধ যানবাহন আটকে বিশেষ অভিযান চলছে। এ কারণে অবৈধভাবে শহরে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ থাকায় স্বস্তিতে শহরবাসী। তবে এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে ইজিবাইক মালিক ও চালকরা ২০টি রিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। এদিকে এর প্রতিবাদে যশোর জেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। ইজিবাইক মালিক ও চালকরা শহরে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা ইজিবাইক চলাচলে নিষেধজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানান।
যশোর জেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ মিঠু জানিয়েছেন, ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইজিবাইক পক্ষের লোকজন শহরের বিভিন্ন স্থানে ২০টি রিকশা ভাঙচুর করে। এর প্রতিবাদে আমরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছি।
সূত্র মতে, যশোর পৌরসভা ৮৫০ ইজিবাইকে চলাচলের লাইসেন্স প্রদান করেছে। তবে শহরে কমপক্ষে ২০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। যে কারণে যানযট মুক্ত করা দুরুহ হয়ে পড়ে।
এদিকে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ থাকায় রিকশার ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। তবে যানজটমুক্ত শহরে স্বস্তিতে ঘোরাফেরা করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পথচারী রফিক। অন্যদিকে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে গত ৩ দিনের অভিযানে মোট ৪৫টি নসিমন-করিমন ও ইজিবাইক আটক করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মহাসড়কে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ১৫৪টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
যশোর শহরে গতকাল বুধবার ভোর থেকে সব ধরনের অবৈধ যান নসিমন-করিমন-ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র এএসপি রেশমা শারমিন বলেন, ৩ দিন ধরে মহাসড়কে চলাচলকারী অবৈধ যানবাহন প্রতিরোধে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে নির্দেশ এসেছে সারা দেশে মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফিটনেস ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে মহাসড়কে অভিযান শুরু করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে কাগজপত্রবিহীন অবৈধ যানবাহন আটক করে পুলিশ লাইনে জমা করা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও রেশমা শারমিন জানান।
যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান বলেন, এসপির (পুলিশ সুপার) নির্দেশে অবৈধ যানবাহন আটক করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ছিল অভিযানের তৃতীয় দিন। এ পর্যন্ত মোট
৪৫টি নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ইজিবাইক আটক করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে ১৫৪টি গাড়ির বিরুদ্ধে।
সার্জেন্ট মশিউর রহমান বলেন, অবৈধ যানবাহন আটকের জন্য যেহেতু হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে সে কারণে এ অভিযান পরিচালনা না করার কোনো সুযোগ নেই। এ কাজে মিডিয়া, সাধারণ জনগণ এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সহযোগিতা করা উচিত।
এদিকে নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিকরা গতকাল বুধবার সকালে মণিহারের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ অভিযান প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর সদর ট্রাফিকের পরিদর্শক নুরুল হক সিদ্দিকী জানিয়েছেন, যশোর পুলিশের পক্ষ থেকে গত দুদিন ধরে সড়ক মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রাখতে মাইকিং করায় সকাল থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ইজিবাইক চলাচল।