যোগাযোগে মেগা সাফল্য

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে সরকার। এই খাতের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পগুলো শেষ হলে যোগাযোগ খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে কাজ। আশা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি অনেক বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর কাজ দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে। নদী শাসনের কাজও শুরু হতে যাচ্ছে। সেতুর মূল অংশের নির্মাণসামগ্রী ইতোমধ্যেই মাওয়া এলাকায় এসে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ীই সব কাজ এগোচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে নির্মাণকাজ, যা ২০১৬ সালে উদ্বোধন করা হবে। মেট্রোরেল প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে দরপত্র ডাকা হবে এই প্রকল্পের। এছাড়া যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। গণপরিবহনের সংকট নিরসনে আনা হয়েছে দ্বিতল ও আর্টিকুলেটেড বাস। প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেয়া বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) চালুর। কয়েক বছর ধরে ২১টি তদারক কমিটির তৎপরতায় মহাসড়কগুলো চলাচলের উপযোগী রাখা হয়েছে। জানা যায়, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদাভাবে গুরুত্বও দিয়েছে সরকার। এর বাস্তবায়ন দ্রুত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটিও রয়েছে।
সড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, আমরা সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছি। বড় বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট ছোট অনেক সাফল্য রয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক-মহাসড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য সড়ক বিভাগে প্রথমবারের মতো ২১টি স্থায়ী মনিটরিং টিম গঠন করা হয়। এসব টিমের মনিটরিংয়ের সুবাদে বিগত বর্ষা মৌসুমে ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে ঘরমুখো মানুষ অনেকটা নিরাপদ ও নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পেরেছে। 
সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ড আইন ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই  পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের আওতাধীন বিভিন্ন সেতু, টোল সড়ক ও ফেরি থেকে পাওয়া আয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলে জমা হবে। শুধু তাই নয়, গাড়ি নিবন্ধন, মালিকানা বদল, ট্যাক্সটোকেন ইত্যাদি বাবদ বিআরটিএ’র আয়ও এ তহবিলে জমা হবে। এছাড়া সরকারের তহবিল থেকেও এ তহবিলে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে। সারাদেশে সওজের আওতাধীন সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও  মেরামতের লক্ষ্যে স্বতন্ত্র বোর্ড এ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করবে। তখন আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ধরনার প্রয়োজন হবে না। এছাড়াও প্রণীত হয়েছে মোটরযানের এক্সেল লোড কেন্দ্র পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালা-২০১২। এর মাধ্যমে লরি, কাভার্ড-ভ্যান, ট্রাক ইত্যাদি ভারী যানবাহনে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন বন্ধ হবে। এতে মহাসড়কের স্থায়িত্ব রক্ষা পাবে।
সড়ক বিভাগ এই প্রথমবারের মতো দেশে ২০ বছর মেয়াদি রোড মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করেছে। মোটরযানের কর ও ফি অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদায় করা, ডিজিটাল স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বর প্লেট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগ ও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া বিআরটিসি বাসে ই-টিকিটিং সিস্টেম, আর্টিকুলেটেড বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি সংসদে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনকল্পে সরকার অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং করছে, যার ফলে যানজট নিরসনে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে শহরের যানজট নিরসনে ১ হাজার ৭৯৩ মিটার দীর্ঘ প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার (মিরপুর-এয়ারপোর্ট রোড ফ্লাইওভার) নির্মাণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বনানী রেলক্রসিংয়ে ৮০৪ মিটার দীর্ঘ রেলওয়ে ওভারপাস, ঢাকা মহানগরীর পশ্চিমাংশের সাথে বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী কেরানীগঞ্জে যাতায়াত সহজ করার জন্য শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু, টঙ্গী রেলওয়ে জংশন ও টঙ্গী শিল্প এলাকার রেলপথ ক্রসিংস্থলে সৃষ্ট যানজট নিরসনের লক্ষ্যে টঙ্গী-কালিগঞ্জ-ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়কের ১ম কিলোমিটার শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু নির্মাণ করাসহ বৃহত্তর সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সুলতানা কামাল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উভয় দিকে প্রতি ঘণ্টায় চার হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বাস্তবায়নের কাজ গত বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। এছাড়া দ্রুত গণপরিবহন হিসেবে মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ বা মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সম্পাদনের কথা রয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প
দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের কাজ। মাঝে বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজের গতি কমে আসে। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠায় আগামী ডিসেম্বর মাসেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী। এ প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজও প্রায় শেষপর্যায়ে। গত ৩১ অক্টোবরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই মহাসড়কের ১৯২ কিলোমিটারের মধ্যে ৮৪ দশমিক ২০ কিলোমিটার ফোর লেনের কার্পেটিংয়ের কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কাজের প্রায় ৩৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এই প্রকল্পে দুই লেনবিশিষ্ট সড়ক ছাড়াও ২৩টি সেতু, ২৪৪টি কালভার্ট, তিনটি রেল ওভারপাস, ১৪টি সড়ক বাইপাস (৩২ দশমিক ১৩৭ কিলোমিটার), ৩৩টি স্টিল ফুট ওভারব্রিজ, দুটি (৩৪ মিটার) আন্ডারপাস, ৬১টি বাস স্টপেজ নির্মাণ করা হবে। সড়কের পেভমেন্টের বিভিন্ন স্তরের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এভাবে এগিয়ে চলেছে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা সড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজও শেষপর্যায়ে।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে। যোগাযোগমন্ত্রীর সম্প্রতি সংসদে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৬৯ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই প্রকল্পে শুরু থেকে এই পর্যন্ত এক হাজার ৬২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ  দেয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতু
অনেক টানাহেঁচড়ার পর অবশেষে চলমান রয়েছে পদ্মা সেতুর কাজ। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। এখন আর এটা কোনো স্বপ্ন নয়।  সেতু বাস্তবায়নের পথে দ্রুত সব কাজ এগিয়ে চলছে। শুধু দেশেই নয় পদ্মা সেতুর কাজ এখন চীন, সিঙ্গাপুর ও জার্মানিতেও চলছে। এসব দেশে নির্মিত অংশগুলো জাহাজে করে এনে মাওয়ায় স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি তিনি এক আকস্মিক সফরে পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করে একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের জানান, টেকনিশিয়ানসহ সেতু তৈরিতে দক্ষ শতাধিক চীনা নাগরিক পদ্মা মাওয়া সেতুর কাজে ব্যস্ত রয়েছে। মাটি পরীক্ষার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সিডিউল অনুযায়ী চলছে সব। নদী শাসনের চুক্তিও হয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সর্ববৃহৎ এই সেতু চলাচলের উপযোগী হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেতু নির্মাণের স্বার্থে মাওয়া ঘাট শিমুলিয়ায় স্থানান্তর হচ্ছে। শিমুলিয়া ঘাট চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী মাসে ঘাটটি  স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে এ মাসেই। বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ সেতু বিভাগের তথ্যমতে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণে বিনিয়োগ করছে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে চায়না কনস্ট্রাকশন কমিউনিকেশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেডকে। নির্মাণকাজ শুরুর জন্য এরই মধ্যে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা শুরু করেছে সিসিসিসি। এছাড়া তিন অংশের মধ্যে প্রথম অংশের জমি অধিগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। পুরো এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনের কথা রয়েছে ২০১৬ সালে। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ কিলোমিটার। এর সঙ্গে ওঠানামার র‌্যাম্প হবে প্রায় ৫ কিলোমিটার। প্রথম পর্যায়ে বিমানবন্দর সড়ক থেকে মহাখালী পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর এ অংশটুকু ২০১৫ সালে উদ্বোধনের কথা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মহাখালী থেকে কমলাপুর ১০ কিলোমিটার ও শেষপর্যায়ে কমলাপুর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হবে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তহবিল জোগাড় করেছে। শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। এখন রিসেটেলমেন্টের কাজ চলছে। ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা থাকছে না বলেও জানান তিনি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পথ শেষ করে চলতি মাসের শেষের দিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
মেট্রোরেল প্রকল্প
রাজধানীর যানজট নিরসনে ২০১২ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এ প্রকল্প অনুমোদন পায়। এরপর থেকে চলছে এর প্রণয়নের কাজ। সম্প্রতি শেষ হয়েছে ঢাকা  মেট্রোরেল স্টেশনের নকশা প্রণয়নের কাজ। এ প্রকল্পকে পরিবেশবান্ধব করে নকশা করা হয়েছে, যাতে করে ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং বায়ু ও শব্দ দূষণ সামলাতে পারে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে একটি ট্রেন ডিপোর নকশাও তৈরি করা হয়েছে। দিনশেষে ট্রেনগুলোকে এখানেই রাখা হবে। আগামী বছরের শুরুতেই এর ৮টি দরপত্র ডাকা হবে। জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সব দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং ২০১৬ সালের মধ্যে চুক্তি সই হবে। একই সঙ্গে আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হবে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগবে, যার ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দিচ্ছে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার যোগান দেবে সরকার। মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন হবে-উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০ নম্বর, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেইট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকায়।
বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল লাইন-৬ এ ট্রেনের সংখ্যা হবে ২৪ সেট (প্রতি সেটে ৬টি করে কার থাকবে)। মেট্রোরেলের সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা হবে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে মোট ৬০ হাজার।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন, আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হবে। একই সঙ্গে আগামী বছর মেট্রোরেল প্রকল্পের আটটি দরপত্র ডাকা হবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া বাস্তবায়নাধীন  মেট্রোরেল লাইন-৬ এর পাশাপাশি পূর্বাচল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ  মেট্রোরেল লাইন-৭ এর প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী জানান, মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের জন্য ২২ হেক্টর জমির মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ দশমিক ৬৯  হেক্টর জমি রাজউক বুঝিয়ে দিয়েছে। বাকি জমি বুঝে নেয়ার কার্যক্রম চলছে।