বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুত

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিমাসে প্রায় ৬৫ হাজার বাড়িতে নতুন করে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপিত হচ্ছে

এক সময় বাংলাদেশের বেশিরভাগ গ্রাম সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ছেয়ে যেত। এখন এ ধরনের অনেক গ্রামেই রাতের বেলা ঝলমল করছে বিদ্যুতবাতি। সৌরবিদ্যুতের ফলেই গ্রামাঞ্চলে আজ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। এই বিদ্যুত প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৩৫ লাখ বাড়ি সৌরবিদ্যুতের (সোলার হোম সিস্টেম) আওতায় এসেছে। এখন প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়িতে পড়াশোনা, মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়া, টেলিভিশন দেখা, রাতে ঘর আলোকিত রাখা কিংবা বাজারে বেচাকেনা সব কাজই চলছে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশই বিদ্যুত ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য এ ধরনের বিদ্যুত অনেক বেশি উপযোগী। কারণ গ্রীষ্মপ্রধান এ দেশটিতে প্রায় সারাবছরই পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুত কর্মসূচীর আওতায় দেশে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদিত হচ্ছে। সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব এ বিদ্যুত উৎপাদন ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া উচিত। কারণ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে যে দেশগুলো ইতোমধ্যে হুমকির সম্মুখীন, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইতোমধ্যে লবণাক্ততা বেড়েছে। এছাড়া বায়ু দূষণ ও পানি দূষণের কারণে জনজীবনে দুর্ভোগের সীমা নেই। তাই সোলার প্যানেলের সাহায্যে দেশে যত বেশি বিদ্যুত উৎপাদিত হবে, ততই দেশের পরিবেশের জন্য তা মঙ্গলজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সচেতন ও তৎপর বলে জানা যায়। একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিমাসে প্রায় ৬৫ হাজার বাড়িতে নতুন করে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপিত হচ্ছে। এটা পৃথিবীর দ্রুততম ও অন্যতম সফল সৌরবিদ্যুত কর্মসূচী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সারাদেশে সৌরবিদ্যুতের চাহিদা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে এর চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সৌরবিদ্যুত নিয়ে দুর্নীতি শুরু করেছে। তারা বেশি টাকায় নিম্নমানের সোলার প্যানেল সরবরাহ করছে। তারা অনেক সময় ২০ বছরের গ্যারান্টি দিচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক সোলার প্যানেল কয়েক বছরের মধ্যেই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পরে সেই কোম্পানির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এসব দুর্নীতি ও অব্যবস্থার অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে প্রতারণার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরী।

সৌরবিদ্যুত ব্যবস্থার কারণে অনেক গ্রামে এখন বিদ্যুত নিশ্চিত হয়েছে। এতে লোডশেডিংয়ের ঝামেলা নেই। তাই গ্রামের পাশাপাশি শহরেও অনেক মানুষ তাদের বাড়িঘরের ছাদে সৌরপ্যানেল বসিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যাবতীয় অব্যবস্থার বিষয়ে যথাযথ নজরদারি দরকার। সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে অনেক গ্রামে সেচ কাজ চলছে। সৌরবিদ্যুতের অধিকতর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও এগিয়ে আসতে হবে।