বাংলাদেশ থেকে আলু কিনবে ভারত

এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে আলু কেনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। গত ২৮ অক্টোবর ভারতীয় হাইকমিশন এক চিঠিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। গতকাল বিকালে এ বিষয়ে মতামত চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রায় ৯টি দেশে বাংলাদেশের আলু রপ্তানি হলেও ভারত কখনো আগ্রহ দেখায়নি। প্রথমবারের মতো ভারতের প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে নিয়ে রপ্তানির সব দিক খতিয়ে দেখছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, গত অর্থবছরে আলু রপ্তানি নতুন রেকর্ড গড়েছিল, রপ্তানি হয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার টন। মাত্র এক বছর আগের তুলনায় গত বছর আলু রপ্তানির পরিমাণ ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। শুধু রাশিয়াতেই রপ্তানি হয়েছে ২২ হাজার টন। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, রাশিয়ায় এবার বাংলাদেশের আলুর চাহিদা আরও বেড়েছে। এ ছাড়া শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনসহ ৯ দেশে আলু রপ্তানি হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় প্রতিবেশী ভারতের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, এ বছর দেশে ৪ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। এর সঙ্গে আবার যোগ হয় আগের বছরের উদ্বৃত্ত। সব হিসাব শেষে প্রতিবছর অন্তত ১৬ লাখ টন আলু রপ্তানি করা সম্ভব। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, গত অর্থবছরে শুধু মালয়েশিয়ায় আলু রপ্তানিবাবদ আয় হয়েছে ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার মার্কিন ডলার। সিঙ্গাপুর থেকে আলু বিক্রি বাবদ এসেছে ২৬ লাখ ২৭ হাজার ডলার। দেশের মোট আলু রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশই যায় এ দুটি দেশে।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে বন্দরকেন্দ্রিক কিছু জটিলতায় ভুগতে হয় তাদের। বন্দরে ট্রাক আটকে থাকায় অনেক সময়ই আলু পড়ে থাকে দুই থেকে তিন দিন। এতে আলু নষ্ট হয়।
দেশীয় রপ্তানিকারকরা শুধু গ্রানোলা জাতের আলুই রপ্তানি করেন। অন্য আলুগুলোর গুণগত মান রপ্তানিযোগ্য নয়। তাদের অভিযোগ, সরকার আলুর অনেক জাতের কথা বললেও সেগুলোর বেশির ভাগই পাওয়া যায় না। আবার অনেক েেত্রই দেখা যায়, হিমাগারে সংরতি আলু কিছুদিন পর স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, কৃষকরা দেশে আলুর ন্যায্য দাম পান না। সরকারের উদ্যোগে বিদেশে, বিশেষ করে রাশিয়ায়, বাংলাদেশের আলুর বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানিকারকদের সরকার প্রদত্ত ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা এবং শিপমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনও আলু রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, এটা শুভ লণ। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাড়াতে আশা জাগাবে এই পদপে। আশা করা যায়, আলুচাষিদের আর কষ্ট থাকবে না।