বিশ্বসূচকের সেরা দশে বাংলাদেশ

রাজনীতি ও কর্মক্ষেত্রে গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। লৈঙ্গিক বৈষম্য হ্রাসের ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন। আর ের ক্ষেত্রে বিশ্বসূচকে সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে প্রতিবেশী ভারতসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো দেশও। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র দেখা গেছে। খবর বিবিসির।
ডব্লিউইএফের বার্ষিক সমীক্ষায় বলা হয়, ২০০৫ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে লিঙ্গবৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের ফারাক কমিয়ে প্রায় সমান পর্যায়ে এনেছে ১০৫টি দেশ। এই সূচকের শীর্ষে ইউরোপের দেশ আইসল্যান্ড, তলানিতে মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেন।
বিশ্বে লিঙ্গবৈষম্য পর্যবেক্ষণে প্রতিবছর সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডব্লিউইএফ। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ, নারীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিবেচনায় নিয়ে দুটি পৃথক সূচক তৈরি করে সংস্থাটি। এর একটি সার্বিক সূচক, অন্যটি রাজনৈতিক। ডব্লিউইএফের এ বছরের রাজনৈতিক সূচকে সেরা দশে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর সার্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৮তম, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫ নম্বরে। ১৪২টি দেশের ওপর চালানো এই জরিপের সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান শেষের দিক থেকে দ্বিতীয়।  
ডব্লিউইএফের সমীক্ষা অনুযায়ী, ের দিক থেকে শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে যথাক্রমে আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ে। তালিকার ১৫ নম্বরে ভারত। সূচকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ৩৩ নম্বরে। তালিকার ৫৪ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্র। ৭ নম্বরে স্থান আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডার। 
প্রকাশিত সমীক্ষার গবেষক সাদিয়া জাহিদি বলেন, কম জনসংখ্যার কারণে আইসল্যান্ডে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া সহজতর। তাই দেশটি পর-পর ৬ বার শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নারীশিশু শিক্ষার হার কম। তাই দেশটি বারবার সূচকের তলানিতে অবস্থান করছে।