ক্যান্সার গবেষনায় বিজ্ঞানী জহিরুলের সাফল্য

ক্যান্সার সনাক্তকরনে গুরুত্বপুর্ন সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকী। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সনাক্তকরন বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশের মানুষদের কাছে সহজলভ্য হবে এমন একটি যন্ত্রের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সনাক্তকরণের স্বপ্ন নিয়ে ডঃ জহিরুল আলম সিদ্দিকী ২০১২ সালে অষ্ট্রেলিয়ার রিসার্চ কাউন্সিল থেকে ৩ লাখ ৭২ হাজার ডলারের অনুদান পেয়েছিলেন। সেখান থেকে  তিনি ন্যানোশীয়ারিং নামের এমন এক ধরণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে মানব রক্তের অভ্যন্তরে অবস্থিত অতি বিরল এক ধরনের কোষ ( সার্কুলেটিং টিউমার সেল বা সিটিসি) সুনির্দিষ্ট ভাবে সনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন। যেটি প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট তথ্য বহন করে। তার এই আবিষ্কার আমেরিকান ক্যামিকাল সোসাইটির জার্নালসহ কয়েকটি বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের প্যাটেন্ট লাভ করেছেন। এই উদ্ভাবনকে সাধারন মানুষের ব্যবহার উপযোগী করার প্রয়াস হিসাবে তিনি গত ১৭ অক্টোবর  ২০১৪ তারিখে অষ্ট্রেলিয়ান ন্যশনাল হেলথ এন্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল থেকে ৪লাখ ১১ হাজার ডলার অনুদান পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন এই অনুদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্য স্বল্প মূল্যের একটি যন্ত্র তৈরী করতে পারবেন, যার মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার সনাক্ত করতে পারবেন। আর প্রাথমিক অবস্থায় রোগ সনাক্ত করা সম্ভব হলে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ  ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকীর বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামে।। তিনি সিলেট  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স এবং ভৌত রসায়নে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তারপর দক্ষিন কোরিয়ার পুসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে অষ্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বিজ্ঞানী এলান বন্ডের ল্যাবরেটরীতে পোষ্ট ডক্টরাল ফেলো হিসাবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি অষ্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত অষ্ট্রেলিয়ান ইনিস্টিটিউট ফর বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ন্যানোটেকনোলোজি এর সেন্টার ফর পারসোনালাইজড ন্যানোমেডিসিনের এসোসিয়েট গ্র“প লিডার হিসাবে কর্মরত আছেন। দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে তিনি ছাত্রদের অষ্ট্রেলিয়াতে রিচার্সের সুযোগ করে দিতে আগ্রহী। বর্তমানে তার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের দুইজনসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স এবং পিএইচডি  রিসার্চ করছেন ।