এসএমএস করুন-নকল ওষুধ থেকে নিরাপদ থাকুন

আমাদের দেশে অনেক দিন ধরেই ওষুধ নকল হয়ে আসছে। ইদানীং তা বেড়েছে বৈ কমেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশের সব ওষুধের ১০ শতাংশ নকল। আর নকল হচ্ছে সব ধরনেরই ওষুধ। এক টাকার মাথা ব্যথার ট্যাবলেট থেকে শুরু করে ২০০০ টাকার ইনসুলিন, কিছুই বাদ যাচ্ছে না নকল থেকে।

এই তো সেদিন, জাতীয় এক পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, স্বনামধন্য এক অ্যান্টিবায়োটিক নকল হয়ে আসছিল বেশ কিছুদিন ধরে। পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকা আর ঢাকার অদূরে কেরানিগঞ্জে চোখের আড়ালে হয়ে আসছিল এ অপকর্ম। ওষুধের খোসা কিনে তাতে আটা আর লবণ ঢুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নামে! কিন্তু এর কি কোন প্রতিকার নেই? আমরা কি জীবনরক্ষার নামে জীবননাশের ঝুঁকিতে থেকে যাব সারাজীবন?

না, বাংলাদেশেরই কিছু তরুণ উদ্ভাবক নিয়ে আসছে নকল ওষুধের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ সমাধান-প্যানাসিয়া। তাদের মতে, বাংলাদেশে প্রতিটি ওষুধের পাতা একই রকম, আলাদা করার কোন উপায় নেই। আর তাই নকলবাজেরা এক ওষুধের পাতা লাখ লাখ নকল করে তার ভেতরে মারাত্মক ক্ষতিকর উপকরণ ভরে দিয়ে রোগীদের প্রতারিত করছে।

কিন্তু প্যানাসিয়ার সমাধান বাজারে এলে বন্ধ হয়ে যাবে তাদের এই কারবার। কারণ প্যানাসিয়া বাংলাদেশের ওষুধ কোমপানিগুলোর সাথে কাজ করে তাদের প্রতিটি ওষুধের গায়ে একটি করে আলাদা কোড বসাবে। প্রতিটি ওষুধের পাতার গায়ের কোডটি হবে আলাদা। এতে প্রতিটি ওষুধকেই আলাদা আলাদা করে সনাক্ত করা যাবে। শুধু তাই না, ওষুধের পাতার গায়ে লেখা কোডটি একজন রোগী ওষুধ কেনার আগে একটি নির্দিষ্ট নাম্বারে এসএমএস করলে প্যানাসিয়া যাচাই করে দেখবে, সেই কোডটি তারাই বসিয়েছিল কিনা। যদি তা হয়, প্যানাসিয়া সেই রোগীর কাছে ফিরতি এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেবে তার ওষুধটি আসল। অন্যথায় ওষুধটি নকল হতে পারে বলে সাবধান করে দেয়া হবে। এসএমএস-এর মাধ্যমে ছাড়াও প্যানাসিয়ার নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ আর তাদের ওয়েবসাইট থেকেও ওষুধ যাচাই করা যাবে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বড় বড় সব ওষুধ কোম্পানির সাথে কথাবার্তা বলছে প্যানাসিয়া। তাদের এ উদ্যোগে সরকারি মহলও বেশ খুশি। প্যানাসিয়াকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা। কারণ প্যানাসিয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ অনেক সহজ করে দেবে। আগে যেখানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অভিযান পরিচালনা করতে হত এখন সাধারণ মানুষের এসএমএস-ই তাদের জানিয়ে দেবে যে কোথায় কোথায় নকল ওষুধ ধরা পড়েছে।
প্যানাসিয়ার জন্ম এর উদ্যোক্তাদের পরিবারেরই এক সদস্যের সাথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা থেকে। সামান্য মাথাব্যথার ওষুধ খেয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সে যাত্রা বেঁচে গেলেও পরীক্ষা করে দেখা যায় ওষুধটি ছিল নকল। সেই থেকেই প্যানাসিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ভাই সৌমিক ও সৌভিক আসওয়াদ। পরে তাদের সাথে যোগ দেন প্রোগ্রামার সিদ্দিক আবু বক্কর।

নকল প্রতিরোধে তাদের এই উপায়টি বিশ্বজুড়েই বেশ নজর কেড়েছে। বেশ কিছু দেশি ও বিদেশি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ছাড়াও সংবাদ মাধ্যমের মনোযোগ কেড়েছেন তারা। কদিন আগে দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোক্তাদের এক সম্মেলনে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতও ভূয়সী প্রশংসা করেন প্যানাসিয়ার। আর খুব শিগগিরই ওষুধ ছাড়াও যেসব পণ্য অনেক নকল হয়; যেমন: কসমেটিকস, গাড়ির ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র, মোবাইল ফোন, রাসায়নিক সার ইত্যাদি পণ্যও যাচাই করার সুযোগ করে দেবে প্যানাসিয়া।
এখন অপেক্ষা প্যানাসিয়ার সমাধানটি বাজারে আসার। আর তাহলে পার পাবে না নকলবাজেরা। আর আমরা সাধারণ রোগীরা, ক্রেতারা থাকব নিরাপদে, শান্তিতে ও স্বস্তিতে।

এই সমাধানের ব্যাপারে আপনার মূল্যবান মতামত প্যানাসিয়াকে জানাতে ভিজিট করুন www.panacealive.com এই ঠিকানায় অথবা লাইক করুন www.facebook.com/panacealive পেজে। আপনার নিজস্ব যাচাই অ্যাকাউন্টও খুলে ফেলতে পারেন এই ফাঁকে। আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন PAN (স্পেস) আপনার নাম (স্পেস) আপনার জেলা (স্পেস) আপনার ইমেইল আইডি (যদি থাকে) আর পাঠিয়ে দিন ১৬২৪২ নম্বরে। যদি কোন প্রশ্ন থাকে ফোন করুন ০১৬৭৪৯১৪৬৮৬ এই নম্বরে।

Panacea’এর Android Appটি Download করতে পারবেন http://bit.ly/panaceaapp < সাইটটি হতে।