আধুনিক কসাইখানা

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের দেশে খাবারের মান ও এর গুনাগুণ নিয়ে যথেষ্ট ঝামেলা আছে! ফরমালিন তো আমাদের জীবনের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। শান্তিনগর বাজারের সামনে ‘ফরমালিন চেকপোস্ট’ পৃথিবীর প্রথম কি না, তা নিয়ে গবেষণা অথবা চায়ের কাপে ঝড় উঠানো যেতে পারে। কসাইখানাগুলোর কথা একবার ভেবে দেখেছেন! মাছি ভনভন গরমের দিনে কোনো দুপুরে মাংস ঝুলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রেতার জন্য অলস অপেক্ষা! একবারও কি ভেবেছেন এই গরমে কী পরিমান জীবাণু জমতে পারে এই মাংসে? আর এর মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

তবে বাজারের যখন এই দশা তখন কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার মতো কিছু আধুনিক কসাইখানা এখন চালু হয়ছে। কেউ কেউ তো বিশাল ব্যপ্তি নিয়ে শুরু করেছে। এর একটি হলো বেঙ্গল মিট লিমিটেড। পাবনায় নিজস্ব কসাইখানাতে অত্যাধুনিক ও হালাল নিয়ম কানুন মেনেই জবাই করা হয় গরু ও খাসি, এই তথ্য জানালেন বেঙ্গল মিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম আসিফ। কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানের মাংস হালাল নিশ্চিত করছেন? প্রশ্নের উত্তরে আসিফ বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন গাইড লাইন মেনে এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হয়। আরও জানা গেল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন ব্যক্তি সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকেন এদের বিশাল আকারের কসাইখানায়। শুধু তাই নয়, হালাল নিশ্চিত করবার জন্য ৯টি ধাপ মানা হয়।
আসিফ বলেন, আমাদের দেশে অনেকটা অজ্ঞানতাবশত মাংস কাটা ও এর সংরক্ষণের সাধারণ সাবধানতার বিষয়গুলো আমরা গায়ে মাখিনা! ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। তাছাড়া সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করার ফলে কম বা পুষ্টিগুণহীন খাবারের পিছনে অযথা পয়সা নষ্ট করছি। জনস্বাস্থ পুষ্টিবিদ আসফিয়া আজিম এই বিষয়ে জানান, জবাইকরা পশুর শরীর থেকে রক্ত ঝরিয়ে নিতে হবে ভালো ভাবে। তারপরে চামড়া ছাড়িয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখাটা এখন পশ্চিমাসহ বহু দেশেই সাধারণ নিয়মের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কথা আছে, তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি এভাবে রাখা যাবে না। তাহলে এই পদ্ধতিতেও পুষ্টিগুণ হারাবে মাংস।

আসফিয়া আজিম আরও জানান, গরমে বা সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে মাংস শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর হতে পারে তেমনি খুব স্বাভাবিকভাবেই পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। আসিফ জানান, তাদের কসাইখানায় জবাই করার সময় পশুকে উলটে দেওয়া হয় যাতে রক্ত ঠিকভাবে বেরিয়ে যায়। এতে নাকি রক্তবাহিত বহু জীবাণু থেকেই রক্ষা পাওয়া যায়। পুরো কসাইখানাতেই তাপমাত্রা ঠিক রাখার ব্যবস্থা আছে আর তাই কাজও চলে বহুক্ষেত্রে ‘মাইনাস’ ডিগ্রীতে। একবারে জ্যাকেট, কানটুপি পরেই কাজ করেন এখানকার অনেক শ্রমিক।

আসিফের ভাষায়, “আমাদের কসাইখানার ভেতরে ঢুকলে বুঝতে পারবেন না আপনি পাবনাতে আছেন নাকি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কোনও কসাইখানা দেখছেন। এই পুরো ফ্যাক্টরির বেশিরভাগ জিনিসপত্রই অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকরা। ‘বেঙ্গল মিট’ শুধু দেশি মাংসের টুকরা বিক্রি করে না। শহুরে মধ্যবিত্তের জন্য এরা স্টেকের মতো ‘কাট’ও রেখেছে। এছাড়া শহুরে জীবনের অবিচ্ছেদ্য ‘পাওনা’ ব্যস্ততা কে মাথায় রেখে এনেছে ৩০ থেকে ৪০ ধরনের মেরিনেইটেড মাংস। কাবাব বা স্টার ফ্রাই সবই আছে এদের তালিকায়। বিভিন্ন সুপার শপগুলো ছাড়াও প্রায় ২৪টির মতো জায়গায় বিক্রি হচ্ছে এদের মাংস।