একই জমিতে চার ফসল

রাজশাহীর তানোরে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক ফসলি জমিতে এখন বছরে চারটি ফসল উৎপন্ন করছেন। উপজেলায় দানাদার ও তৈলজাত শস্যের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এক ফসলি জমি চার ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। একই জমিতে চক্রাকারে নানা জাতের উফসী ফসল আবাদ হওয়ায় দানাদার ও তৈলজাতীয় শস্যের বার্ষিক উৎপাদনও প্রায় তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তানোরে যান্ত্রিক সেচ সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় গত মৌসুম থেকে বিশেষ করে হরিদেবপুর, চাঁন্দুড়িয়া, কালীগঞ্জ, তালন্দ, ধানতৈড়, চাপড়া, কৃষ্ণপুরসহ অধিকাংশ এলাকায় বোরো ও রোপা আমনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মধ্যবর্তী ফসল চাষের প্রবণতা বাড়ছে। এসব এলাকার উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবকরা কৃষিকাজে এগিয়ে আসায় এ পরিবর্তন ঘটছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশেষ করে দানাদার শস্যের সঙ্গে মিল রেখে তৈলজাতীয় ফসল বারি সরিষা ১৪ ও ১৫ জাতের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে তানোরে আবাদ হওয়া দানাদার ও তৈলজাতীয় ফসলের প্রায় অর্ধেকই হলো বারি জাতের সরিষা। তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. হাসানুল কবীর কামালী জানান, আমন ধান কাটার পর বোরো চাষের আগে স্বল্পমেয়াদি বারি ১৪ ও ১৫ জাতের সরিষা আবাদ হচ্ছে। তীব্র শীত বা ঘন কুয়াশায় এ সরিষার তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তানোরে কৃষকরা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বারি জাতের সরিষা বপন করেন। মাত্র আড়াই মাসের মাথায় এ সরিষা সংগ্রহ করা হয়। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ কেজি। বারি জাতের সরিষা চাষে খুব একটা খরচ হয় না। চক্রাকারে ফসল আবাদ করায় পরিমিত সারেই পর পর চারটি ফসল আবাদ করা হয়।
তানোরের গোল্লাপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) নুর মোহাম্মদ আলী (৪৬) জানান, বারি জাতের সরিষা উত্তোলনের পর চাষিরা ওই জমিতে স্বল্পমেয়াদি ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান রোপণ করেন। বোরো কাটার পর তারা একই জমিতে স্বল্পমেয়াদি পাটের আবাদ করেন। আর পাট কাটার পর ওই একই জমিতে বিণা জাতের রোপা আমন চাষ করেন। এভাবে একই জমিতে চক্রাকারে বছরের চারটি ফসলের আবাদ করে কৃষক সহজেই লাভবান হচ্ছেন।